ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫৩:২৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ভরা মৌসুমেও ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার, চাপে সাধারণ ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৫:৩৯ পিএম, ১৭ মে ২০২৬ রবিবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

ধান উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যতম প্রধান জেলা নওগাঁয়ে এখন পুরোদমে চলছে বোরো ধান কাটার মৌসুম। কৃষকের ঘরে নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে, হাট-বাজারেও সরবরাহ রয়েছে সন্তোষজনক। তবু প্রত্যাশার বিপরীতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়েছে চালের দাম। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের চালে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে, যা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

সাধারণত বোরোর ভরা মৌসুমে বাজারে নতুন চালের সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমার প্রবণতা থাকে। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। এতে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের সংসার খরচে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

নওগাঁ শহরের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ (মোটা) চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৪৯ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা। পুরোনো কাটারি (শটেজ) চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৭৩ থেকে ৭৫ টাকা। আর কাটারি হাতছাঁটি চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। তবে জিরাশাইল চালের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি; এটি এখনও ৭০ থেকে ৭২ টাকার মধ্যেই রয়েছে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন চালের সরবরাহ এখনো পুরোপুরি বাজারে আসেনি। পাশাপাশি ধানের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় মিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও।

নওগাঁ শহরের এক চাল ব্যবসায়ী জানান, বিশেষ করে কাটারি ও স্বর্ণা-৫ জাতের চালের দাম মিল পর্যায়েই বেড়েছে। ফলে খুচরা বিক্রেতাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। অনেকের অভিযোগ, মৌসুমের এ সময়ে চালের দাম বাড়ার পেছনে অসাধু মজুতদারি বা বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের ভূমিকা থাকতে পারে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হোসেন বলেন, সীমিত আয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় মাসের বাজেট এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

আরেক ভোক্তা মানিক হোসেনের ভাষ্য, যখন নতুন ধান বাজারে আসছে, তখন চালের দাম বাড়ার যৌক্তিকতা নেই। প্রশাসনের উচিত বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়ানো।

চালকল মালিকদের দাবি, এবারের কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বাজারে ধানের চাহিদা বেড়েছে, যা চালের দামে প্রভাব ফেলছে।

জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সাময়িক পরিস্থিতি। নতুন ধান পুরোপুরি বাজারে এলে এবং চাল উৎপাদন বাড়লে দাম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

তাদের মতে, এ বছর নওগাঁয় বোরো উৎপাদন সন্তোষজনক হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে চালের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা নেই। তবে ততদিন পর্যন্ত বাড়তি দামের চাপ বইতে হবে সাধারণ ক্রেতাদের।