ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:২৯:০৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ঢাকার সড়কে এআই, ফাঁকা রাস্তাতেও সিগন্যাল মানছেন চালকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০১ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ সোমবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রাজধানীর গভীর রাত। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, যানবাহনের চাপও নেই বললেই চলে। তবু মৎস্যভবন মোড়ে লালবাতি জ্বলতেই সারিবদ্ধভাবে থেমে আছে কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি। আশপাশে কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই, নেই হাতের ইশারা। তারপরও চালকেরা অপেক্ষা করছেন সবুজ সংকেতের জন্য। কারণ, এখন শুধু ট্রাফিক পুলিশের চোখ নয়—ঢাকার সড়কে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার নজরদারি।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে এখন এমন দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে। জিপিও, শাহবাগ, মৎস্যভবন, গুলশানসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এআই ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থার প্রভাবে চালকদের মধ্যে বেড়েছে আইন মানার প্রবণতা। কোথায় ক্যামেরা আছে আর কোথায় নেই—তা নিশ্চিতভাবে জানা না থাকায় অনেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

শনিবার বিকেলে জিপিও এলাকায় এমনই এক দৃশ্য দেখা যায়। লালবাতি জ্বলার পর সামনে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী জেব্রা ক্রসিংয়ের আগে থেমে যান। পেছন থেকে আরেক আরোহী তাকে কিছুটা এগোতে বললেও তিনি রাজি হননি। তার যুক্তি—স্টপ লাইন অতিক্রম করলেই যদি এআই ক্যামেরায় ধরা পড়ে, তাহলে ডিজিটাল মামলার ঝুঁকি নিতে চান না।

চালকদের অনেকেই বলছেন, আগে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বা পরিস্থিতি বুঝিয়ে অনেক সময় রেহাই পাওয়া যেত। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় সেই সুযোগ নেই। ফলে নিয়ম ভাঙার আগে এখন অনেকেই দু’বার ভাবছেন।

গুলশানের বাসিন্দা ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, কয়েকদিন আগে তার গাড়িচালক ভুল করে জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই তিনি গাড়ি পিছিয়ে স্টপ লাইনের পেছনে আনেন। তার ভাষায়, “মামলার ভয়েই এখন চালকেরা নিয়ম মেনে চলছেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে হওয়া মামলা মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি নিরপেক্ষ বলেই মনে করছে।”

গত ৭ মে রাজধানীতে পরীক্ষামূলকভাবে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি চালু হওয়ার পর থেকেই দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এই ব্যবস্থায় লালবাতি অমান্য, উল্টো পথে চলাচল, স্টপ লাইন অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, সিটবেল্ট না বাঁধা কিংবা গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতো অপরাধ শনাক্ত হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, সড়কে স্থাপিত পিটিজেড ও বিশেষ এআই লেন্সযুক্ত ক্যামেরা সার্বক্ষণিকভাবে যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। আইন ভঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠায়। পরে সফটওয়্যার বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রসিকিউশন তৈরি হয় এবং বিআরটিএর ডেটাবেজ থেকে গাড়ির মালিকের তথ্য সংগ্রহ করে এসএমএস ও ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হয়।

প্রাথমিক দুই সপ্তাহেই এই ব্যবস্থায় কয়েক হাজার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে শত শত মামলার নোটিশ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে রাজধানীর আরও ৬০টি স্পটে এবং এক বছরের মধ্যে ১২০টি প্রধান সিগন্যাল পয়েন্টকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ঢাকার প্রায় ৫০০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে স্বয়ংক্রিয় নজরদারির আওতায় আনা হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার মিশ্র ট্রাফিক ব্যবস্থা—বিশেষ করে রিকশা, অটোরিকশা ও অনিবন্ধিত যানবাহনের উপস্থিতি—এই প্রযুক্তির পূর্ণ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারপরও সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য মামলা দেওয়া নয়; বরং সড়কে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। আর সে পরিবর্তনের আভাস ইতোমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে।