ঢাকার বাতাস আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’, দূষণের তালিকায় পঞ্চম
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:০২ এএম, ১৯ মে ২০২৬ মঙ্গলবার
ঢাকার বাতাস আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’, দূষণের তালিকায় পঞ্চম
বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আজ বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই স্কোর ছিল ১৫৩, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ২৫০, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ১৭৯। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে ছিল যথাক্রমে উগান্ডার কাম্পালা এবং নেপালের কাঠমান্ডু। এই শহরগুলোর বাতাসের মানও অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো নির্মাণকাজের ধুলা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ইটভাটা এবং শুষ্ক আবহাওয়া। গরম ও বৃষ্টিহীন দিনে বাতাসে ভাসমান অতিক্ষুদ্র ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
বায়ুমানের আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাসের মান ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে ধরা হয়। একিউআই ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্যও বাতাস অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসের সংক্রমণ, চোখ জ্বালা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তদের জন্য এ ধরনের বায়ু অত্যন্ত ক্ষতিকর।
একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে গেলে বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। আর ৩০১ ছাড়িয়ে গেলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।
পরিবেশবিদদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজে ধুলা কমানোর ব্যবস্থা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং সবুজায়ন বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
