ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫২:৩২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কঙ্গোতে ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, নারী-শিশুসহ নিহত প্রায় ১০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২৫ এএম, ১৯ মে ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রধান জ্যাঁ কাসেয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে দেশটিতে আরও শত শত মানুষ আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যাঁ কাসেয়া জানান, বর্তমানে কঙ্গোতে ৩৯০ জনের বেশি মানুষের মধ্যে ইবোলা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। বিশেষ করে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা এবং নিরাপত্তাবিধি ছাড়া দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাব ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে যে সংখ্যক আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে, প্রকৃত পরিস্থিতি তার চেয়েও বড় হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে রোগটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনের ইবোলা ভাইরাসের কারণে ছড়াচ্ছে। এই ধরনের ভাইরাস তুলনামূলকভাবে বিরল এবং এর বিরুদ্ধে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। ফলে রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আলাদা করা এবং সংক্রমিতদের সংস্পর্শ শনাক্ত করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আফ্রিকা সিডিসি প্রধান জ্যাঁ কাসেয়া বলেন, “যেহেতু এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে অনুমোদিত চিকিৎসা বা টিকা সীমিত, তাই জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলা আক্রান্ত দুইজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি বলছে, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এই প্রাদুর্ভাব আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।

ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত সংক্রমিত ব্যক্তি বা প্রাণীর শরীরের তরলের সংস্পর্শে ছড়ায়। জ্বর, দুর্বলতা, বমি, ডায়রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এ রোগের সাধারণ লক্ষণ। চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি হতে পারে।

এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে গিনি, সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সংকট বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা এবং সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।