টিকার সংকট নিয়ে ইউনূস সরকারকে বারবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৪৩ পিএম, ২০ মে ২০২৬ বুধবার
টিকার সংকট নিয়ে ইউনূস সরকারকে বারবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ঢাকায় ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি জানিয়েছেন, টিকার সম্ভাব্য সংকট নিয়ে তৎকালীন মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল।
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি পাঠানো হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে অন্তত ১০টি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তার ভাষায়, “আমরা বারবার বলেছি, সামনে টিকার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম।”
এর আগে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দেশে টিকার “আসন্ন সংকট” নিয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। সেই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ইউনিসেফ জানায়, হাম-রুবেলা, পোলিও, টিটেনাস ও বিসিজিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সময়মতো টিকা সংগ্রহ না হলে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হবে এবং শিশুদের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মার্চের মাঝামাঝি থেকে দেশে হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৭৪ জন।
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ টিকা সংগ্রহে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করা গেলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না।
রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, আগে দাতা সংস্থার সহায়তায় ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করা হলেও পরে তা রাজস্ব বাজেট ও উন্মুক্ত দরপত্রের আওতায় নেওয়া হয়। এর ফলে ক্রয় প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয় এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, শুধু টিকা কিনতে দেরি হওয়ার কারণেই হামের প্রাদুর্ভাব হয়নি; এর সঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, মাঠপর্যায়ের দুর্বলতা ও অন্যান্য পরিস্থিতিও জড়িত ছিল। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন সংকট না হয়, সেজন্য স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউনিসেফ প্রতিনিধি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। গত ৫ এপ্রিল শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় এবং ১০ মে নাগাদ তা প্রায় শতভাগ পূরণ হয়েছে।
রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, সময়মতো জরুরি টিকা কার্যক্রম চালু করায় হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী না করলে ভবিষ্যতেও এমন সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
