গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা এখনও অনিশ্চিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:১৩ পিএম, ২১ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের চলাচল এখনো নানা ভোগান্তি, অনিরাপত্তা ও হয়রানির মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ, নারী যাত্রী ও পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শুধু নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থাকে নারীবান্ধব ও নিরাপদ করে তোলা।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথোরিটি ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রআয়োজিত ‘গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে।
সভায় গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করেন ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম। আলোচনায় অংশ নেওয়া নারী যাত্রীরা বলেন, কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন—সব ক্ষেত্রেই তাদের প্রধান ভরসা বাস। কিন্তু বাসে ওঠা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়।
আলোচক নাসিমুন হক আরা মিনু বলেন, গণপরিবহনে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নারীদের শরীরে ইচ্ছাকৃত স্পর্শ, অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। অনেক নারী এসব অভিজ্ঞতা পরিবারকেও বলতে পারেন না, ফলে মানসিক চাপ আরও বাড়ে।
তিনি প্রতিটি বাসে অভিযোগ নম্বর, আচরণবিধি এবং নারীদের হয়রানির শাস্তিসংক্রান্ত তথ্য দৃশ্যমানভাবে টানানোর দাবি জানান।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক গণপরিবহন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে দক্ষ নারী চালকের স্বল্পতা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বড় বাধা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডিটিসিএর সাবেক নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, নারীদের যাতায়াতের ধরন, সমস্যা ও যাত্রীচাপ নিয়ে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।
অধ্যাপক ড. আসিফ-উজ-জামান খান বলেন, নারীরা শুধু বাসের ভেতরেই নয়, বাসস্টপে অপেক্ষা করা, ওঠানামা করা এবং বাসা পর্যন্ত ফেরার পথেও অনিরাপত্তার মধ্যে থাকেন। তিনি বাসে সিসিটিভি, কার্যকর সংরক্ষিত আসন, আলাদা দরজা ও নিরাপদ বাসস্টপ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া নারী কাউন্টারকর্মীরাও কর্মস্থলে অপমানজনক আচরণ ও টয়লেট সংকটের কথা তুলে ধরেন।
বক্তাদের মতে, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শুধু আইন নয়, চালক-হেলপারদের আচরণগত পরিবর্তন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিও জরুরি। পাশাপাশি পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
