সিমিনের রেহাইয়ে আসিফ নজরুলের ‘হস্তক্ষেপ’ অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:৩৫ পিএম, ২১ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ট্রান্সকম গ্রুপকে ঘিরে পারিবারিক বিরোধ ও একাধিক মামলার তদন্ত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমানকে বিভিন্ন মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হস্তক্ষেপ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ার আত্মসাতের মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র জমা পড়লেও আদালতে সিমিন রহমানসহ অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাদীপক্ষ।
মামলাটির বাদী ও ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক শাযরেহ্ হক দাবি করেছেন, আদালত তাদের বক্তব্য পুরোপুরি শোনার আগেই মামলা খারিজ করে দেন। তার অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের চাপ ও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে মামলার গতিপথ বদলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পারিবারিক এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর। ছোট বোন শাযরেহ্ হক বড় বোন সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি, সম্পত্তি আত্মসাৎ, প্রতারণা ও ভাই হত্যার অভিযোগ এনে একাধিক মামলা করেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের জন্য অনুষ্ঠিত এক বোর্ড সভায় শাযরেহ্ হক ও তার ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমান উপস্থিত না থাকলেও তাদের স্বাক্ষর দেখানো হয়। একইভাবে প্রয়াত লতিফুর রহমানের অনুমোদনের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তবে আদালত পরে সব আসামিকে অব্যাহতি দেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই মামলার তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছিল। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলায় প্রভাব খাটানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিপুল অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলা নিষ্পত্তিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
