বাজারে স্বস্তি নেই, চড়া দামে নিত্যপণ্যে হাঁসফাঁস ক্রেতার
জোসেফ সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:১৫ এএম, ২২ মে ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস ও ডিমের দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বরং কয়েকটি পণ্যের দাম নতুন করে বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মালিবাগ ও মিরপুর এলাকার বাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বাজার করতে আসা অনেকেই বলছেন, আয় বাড়েনি, কিন্তু প্রতিদিনই বাড়ছে খরচ।
বর্তমানে মোটা চাল কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মাঝারি চাল ৬০ থেকে ৬৮ টাকা এবং মিনিকেট বা সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮৫ টাকায়। মসুর ডাল কেজিভেদে ৯০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ১৮৬ থেকে ১৯৫ টাকা এবং বোতলজাত এক লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই মাছ কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, আর ইলিশের দাম আকারভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংসের দাম ১ হাজার ১০০ টাকার নিচে মিলছে না। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।
সবজির বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা থাকলেও কয়েকটি পণ্যের দাম এখনো বেশি। আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি হলেও টমেটো, কাঁচামরিচ ও কিছু মৌসুমি সবজির দামে ওঠানামা দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টি, পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাজারে পড়ছে।
ডিমের বাজারেও বাড়তি চাপ রয়েছে। ফার্মের ডিমের হালি ৪২ থেকে ৪৫ টাকা এবং দেশি ডিম ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতার অভিযোগ, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম ও মুরগির দাম কয়েক দফা বেড়েছে।
মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে দুই হাজার টাকায় এক সপ্তাহের বাজার হতো, এখন তিন হাজার টাকাতেও ঠিকমতো হয় না। মাছ-মাংস তো প্রায় বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে।”
একজন সবজি বিক্রেতা জানান, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজার তদারকি বাড়ানো এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরানো কঠিন হবে।
