জাতিসংঘে জলবায়ু প্রস্তাব পাস, বিরোধিতায় যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:২১ এএম, ২২ মে ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্বের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মতামতকে সমর্থন জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিপুল ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৪১টি দেশ। বিপক্ষে ভোট পড়ে ৮টি। ভোটদানে অংশ নেয়নি আরও ২৮টি দেশ। বিরোধিতাকারীদের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সৌদি আরব ও ইসরায়েল।
আইসিজের পরামর্শমূলক মতামতে বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। যদিও এই মতামত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে জলবায়ুবিষয়ক মামলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভোটের পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রগুলোর দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি হিসেবেই এই প্রস্তাবকে দেখা উচিত। তার মতে, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু বিপর্যয় থেকে মানুষকে রক্ষা করা এখন বিশ্ব সরকারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, প্রস্তাবে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে ‘রাজনৈতিক অবস্থান’ প্রতিফলিত হয়েছে। ওয়াশিংটনের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় তুভালু ও নাউরু-র মতো দেশগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শতাব্দীর শেষ নাগাদ এসব দেশের বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই ভোট জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। একই সঙ্গে উন্নত শিল্পোন্নত দেশগুলোর ওপর নিঃসরণ কমানো ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আন্তর্জাতিক চাপও বাড়বে।
