যেভাবে হজযাত্রীদের সেবা করেন যমজ ২ বোন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৩৯ পিএম, ২২ মে ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
সৌদি আরবের যমজ দুই বোন আমজাদ আল উমারি ও আমওয়াজ আল উমারি। শুধু চেহারা-সুরতেই এক নয়; বরং চিন্তা ও পরিকল্পনাতেও দুজন প্রায় অভিন্ন। তিন বছর ধরে সৌদি রেড ক্রিসেন্টের হয়ে হজযাত্রীদের সেবা দান করছেন তারা।
আরবি সংবাদমাধ্যম আখবার টোয়েন্টিফোরকে দুই বোন জানান, মানবতার সেবা করার স্বপ্নই তাদেরকে রেড ক্রিসেন্টে নিয়ে এসেছে এবং আজ তারা অসংখ্য মানুষের দোয়া, শুভকামনা ও প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।
আমওয়াজ আল উমারি সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, শৈশব থেকেই তারা মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যে প্রশান্তি ও তৃপ্তি পেতেন। সেই চিন্তা থেকেই তারা স্বেচ্চাসেবীদের দলে যুক্ত হন।
এই যমজ দুই বোন গত তিন বছর আগে রেড ক্রিসেন্টে কাজ শুরু করেন এবং কয়েক ধাপ অতিক্রম করে আজ তারা নবীন ও তরুণী স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন।
আমওয়াজ ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক চিকিৎসা বিভাগে যুক্ত হওয়া নিয়ে বলেন, ‘শৈশব থেকেই আমাদের মানবতার জন্য কাজ করার শখ ছিল। রাস্তায় কখনো কোনো দুর্ঘটনা দেখলে মনে খুব আঘাত পেতাম। তখনই চেষ্টা করতাম আক্রান্তদের কোনোভাবে সাহায্য করতে, কিন্তু যেহেতু সে বিষয়ে কোনো জ্ঞান ছিল না, তাই সেটা সেভাবে করতে পারতাম না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে রেড ক্রিসেন্টে স্বেচ্ছায় সেবাদানের সুযোগ তৈরি হলো এবং এখান থেকেই আমাদের শৈশবের সেই ‘সেচ্ছাসেবক’ হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়া শুরু করল।’
আমওয়াজ আল উমারি তার বোন আমজাদ আল উমারির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই একজন আরেকজনকে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি।’
হজযাত্রীদের সেবা প্রদান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যখন দেখি তারা পবিত্র ভূমিতে আসতে পেরে খুব উচ্ছ্বসিত। বিশেষ করে বয়স্ক হজযাত্রীদের চোখে আনন্দের অশ্রু দেখলে আমাদের হৃদয় আনন্দে ভরে ওঠে। সেই মুহূর্তে আমাদের ক্লান্তিও দূর হয়ে যায়।’
তিনি তার কাজ সম্পর্কে আরো ব্যাখ্যা দেন এবং জানান, তিনি হজযাত্রীদের একটি শারীরিক স্বাস্থ্য তালিকা সংকলন করেন, যার মধ্যে তাদের রক্তচাপ, সুগারের মাত্রা, শরীরের তাপমাত্রা, রক্তে অক্সিজেনের অনুপাত ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে। তিনি জরুরি প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসাও প্রদান করেন।
আর আরেক বোন আমজাদ আল উমারি জানান, শিল্পকলার প্রতি তার আগ্রহ ছিল, কিন্তু আমওয়াজের কথা শোনার পর তিনিও এই কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং মানবিক সেবায় যুক্ত হয়ে যান।
তিনি বলেন, আজ আমি সৌদি রেড ক্রিসেন্টে একজন প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। আর এক্ষেত্রে আমার বোন আমার আদর্শ, যিনি আমার ‘দ্বিতীয় মা’। যদিও তিনি আমার চেয়ে মাত্র তিন মিনিটের বড়।
