ঈদ সামনে, রাজধানীর পশুর হাটে জমে উঠছে বেচাকেনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৫৬ এএম, ২৩ মে ২০২৬ শনিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, এবার রাজধানীতে ২৫ থেকে ২৭টি অস্থায়ী ও স্থায়ী পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ১৩টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ১২টির বেশি হাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রাজধানীর গাবতলী, সারুলিয়া, মেরুল বাড্ডা, কালশী, বছিলা, উত্তরা দিয়াবাড়ি, আমুলিয়া, শ্যামপুর-কদমতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে পশু উঠতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও হাটে এখনো পুরোপুরি জমজমাট পরিবেশ তৈরি না হলেও বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের আর কয়েকদিন বাকি থাকায় শেষ সপ্তাহে বেচাকেনা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। সম্ভাব্য চাহিদা যেখানে প্রায় এক কোটির কিছু বেশি, সেখানে প্রস্তুত রয়েছে আরও প্রায় ২২ লাখের বেশি উদ্বৃত্ত পশু।
হাটগুলোতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে গরু ও মহিষ। পাশাপাশি ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এবং সীমিত পরিসরে উটও আনা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর বড় হাটগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য ঘরানার বড় দুম্বা ও উট দেখতে ভিড় করছেন অনেকে। বিক্রেতারা বলছেন, সামর্থ্যবান ক্রেতাদের মধ্যে এবার উট ও বড় আকৃতির দুম্বার প্রতি আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে।
গাবতলী হাটে আসা কুষ্টিয়ার খামারি আবদুল জলিল বলেন, “দেশি গরুর চাহিদা এবারও ভালো। মানুষ এখন ইনজেকশন দেওয়া পশুর চেয়ে প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা করা গরু বেশি খুঁজছে।”
তবে খামারিদের একাংশের অভিযোগ, গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার পশু পালনে খরচও বেড়েছে। ভুসি, খৈল, খড় ও ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে লাভ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় বড় গরুর দাম কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে বেশি হাঁকা হচ্ছে। বড় গরুর দাম ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকারও ওপরে উঠছে। অন্যদিকে ছাগল বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে। দুম্বার দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা থেকে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, হাটে স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভেটেরিনারি টিম থাকবে, পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও পর্যাপ্ত বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে রাজধানীর হাটগুলোতে জমে উঠবে কোটি কোটি টাকার বেচাকেনা। আর ক্রেতারাও চাইছেন সাধ্যের মধ্যে ভালো ও স্বাস্থ্যকর পশু কিনে ধর্মীয় উৎসবটি আনন্দের সঙ্গে পালন করতে।
