ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৮:২১:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রামিসা হত্যা: ধর্ষণের আলামত মিলেছে, চার্জশিট আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৪১ এএম, ২৪ মে ২০২৬ রবিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে শিশু রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি সোহেল রানাই এ ধর্ষণকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামিসাকে ধর্ষণের পরই মূলত শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

শনিবার (২৩ মে) শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং শিশু ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট এবং রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এই ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনগুলো তদন্ত কর্মকর্তার নিকট পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মামলার নিখুঁত অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) খসড়া বা ড্রাফট তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ মে) আদালতে এই চূড়ান্ত অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হতে পারে, যেখানে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা দাবি করেন, ঘটনার আগে তিনি ‘ইয়াবা’ নামক মাদক সেবন করেছিলেন। একই সাথে তিনি শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনাও আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন।

রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম আগামী পবিত্র ঈদুল আজহার পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানান, ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণের পাশাপাশি শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ প্রায় শেষ। সরকার ঘোষিত রবিবারের (২৪ মে) নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

এদিকে, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শিশু রামিসা হত্যা মামলায় ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেলে ঈদের আগেই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে। শনিবার গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই বিষয়ে বলেন, ‘সরকারের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী রবিবারের ভেতরে চার্জশিট জমা দেওয়ার জন্য আমরা রাতদিন কাজ করছি।

এখানে অনেকগুলো কারিগরি ও আইনি প্রক্রিয়া জড়িত। যেহেতু অভিযোগপত্র এখন আর আগের মতো হাতে লেখা হয় না, এটি সিডিএমএসে ডিজিটাল এন্ট্রি দিতে হয়, তাই আমরা কারিগরি বিষয়গুলো প্রসেস করে সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যেই তা আদালতে দাখিল করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।’