ঈদ ঘনালেও রাজধানীর পশুর হাটে এখনো ক্রেতা নেই
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪৮ এএম, ২৪ মে ২০২৬ রবিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তবে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাবেচা। ক্রেতারা হাটে এসে গরু দেখছেন, দরদাম করছেন, বাজার যাচাই করছেন—কিন্তু চূড়ান্ত কেনাকাটায় এখনো অনেকেই অপেক্ষায় রয়েছেন।
শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, গাবতলী, শাহজাহানপুর, মাতুয়াইল, ধোলইখাল, পোস্তগোলা ও কমলাপুর হাটে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক ও পিকআপভর্তি গরু আসছে। তবে অনেক ঘাট এখনো ফাঁকা পড়ে আছে। ব্যাপারীরা পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটালেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ৪ থেকে ৬ মণ গোশত পাওয়া যায়—এমন গরুর প্রতি আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের। তিন মণ গোশত পাওয়া যায় এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে এক লাখ পাঁচ হাজার থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর চার মণ গোশতের গরুর দাম উঠছে দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি।
গাবতলী হাটে গরু দেখতে আসা খালেক নামের এক ক্রেতা বলেন, নির্দিষ্ট বাজেট নিয়েই হাটে এসেছেন। এখনো বাজার যাচাই করছেন। তার ভাষায়, “এখন গরু কিনে রাখার ঝামেলা আছে। তাই দাম বুঝে শেষ দিকে কিনব। তবে এবার ব্যাপারীরা একটু বেশি দাম চাইছেন।”
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা এক ব্যাপারী জানান, তিনি দেশি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। কয়েক মাস ধরে বিশেষ খাদ্য খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো হাটে ক্রেতা কম থাকায় বিক্রি শুরু হয়নি বললেই চলে।
নারায়ণগঞ্জের গরু ব্যবসায়ী জাফর হোসেন বলেন, “মানুষ গরু দেখছে, দরদাম করছে, কিন্তু কিনছে কম। আশা করছি ঈদের দুই-একদিন আগে থেকেই হাট জমে উঠবে।”
যশোর থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী ইন্তাজ আলীর মতে, ঢাকায় গরু রাখার জায়গার সংকট থাকায় বেশিরভাগ মানুষ শেষ মুহূর্তেই পশু কেনেন। তাই এখন মূলত বাজার বুঝে নিচ্ছেন ক্রেতারা।
শাহজাহানপুর হাটে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সিফাত হোসেন বলেন, “চাঁদ রাতে গরু কেনার ইচ্ছা আছে। তবে বাজেটের মধ্যে ভালো গরু পেলে আগেই কিনে নেব।”
এদিকে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় পশুর হাটে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছেন ইজারাদাররা। বৃষ্টি থেকে পশু ও খামারিদের সুরক্ষায় ত্রিপল, খড়, বালু ও অস্থায়ী মাচার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাট সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা জমে উঠবে।
