বিদ্রোহী কবি নজরুলের জন্মদিন আজ
অনু সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:১০ এএম, ২৫ মে ২০২৬ সোমবার
ছবি: সংগ্রহিত।
আজ ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে বিদ্রোহের দীপ্ত শিখা হয়ে জ্বলে ওঠা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মদিন। প্রেম, সাম্য, মানবতা ও দ্রোহের এই কবি আজও বাঙালির হৃদয়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর কবিতা ও গান যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়, শোষণ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।
১৮৯৯ সালের ২৫ মে, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন নজরুল। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুটির ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই অভাব ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সেই অভাবই যেন তাঁকে করে তুলেছিল জীবনের গভীর সত্যের অনুসন্ধানী। কখনো লেটো দলে গান গেয়েছেন, কখনো রুটির দোকানে কাজ করেছেন, আবার কখনো সৈনিকের পোশাক পরে যুদ্ধক্ষেত্রে গেছেন। জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাই পরে রূপ নিয়েছে তাঁর কলমে।
বাংলা সাহিত্যে নজরুলের আবির্ভাব ছিল যেন উল্কার মতো। তাঁর “বিদ্রোহী” কবিতা কাঁপিয়ে দিয়েছিল উপমহাদেশের সাহিত্যাঙ্গন। তিনি শুধু কবি ছিলেন না; ছিলেন সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সাংবাদিক, গীতিকার ও অভিনেতা। তাঁর লেখনীতে যেমন ছিল প্রেমের কোমলতা, তেমনি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকঠিন উচ্চারণ।
নজরুলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা। তিনি ধর্মকে বিভেদের দেয়াল নয়, মানবতার সেতু হিসেবে দেখেছিলেন। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবমুক্তির বার্তা তাঁর কবিতা ও গানে অনুরণিত হয়েছে বারবার। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গান ও কবিতা হয়ে উঠেছিল প্রেরণার অগ্নিশিখা।
রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা গানে নজরুল সৃষ্টি করেছিলেন এক স্বতন্ত্র ধারা। শ্যামাসংগীত, ইসলামী গান, কীর্তন, গজল—সবকিছুতেই তিনি এনেছিলেন অনন্য বৈচিত্র্য। তাঁর সুরে ছিল বিদ্রোহের আগুন, আবার প্রেমেরও অপার কোমলতা।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নজরুলকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে জাতীয় কবির আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট এই মহান কবি মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন প্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তিনি।
এবার “অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং নজরুল” প্রতিপাদ্যে জাতীয়ভাবে কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন।
আজ কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠ ও শ্রদ্ধাঞ্জলির আয়োজন করা হয়েছে।
নজরুল আজ শুধু একটি নাম নন; তিনি এক চেতনা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারিত এক অগ্নিকণ্ঠ। মানুষের মুক্তি, সাম্য আর ভালোবাসার এক অনন্ত প্রতীক। তাঁর কবিতা আজও আমাদের শেখায়—মাথা নত না করতে, মানুষকে ভালোবাসতে, আর অন্ধকারের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠতে।
