শিশুতোষ ছড়া: লিচু চোর- কাজী নজরুল ইসলাম
কাজী নজরুল ইসলাম
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:২৫ এএম, ২৫ মে ২০২৬ সোমবার
ছবি: সংগ্রহিত।
বাংলা শিশুসাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম-এর “লিচু চোর” এক অনন্য ও কালজয়ী সৃষ্টি। দুষ্টুমি, দুরন্তপনা আর গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবনের মজার চিত্র এই ছড়াটিকে শিশুদের কাছে করে তুলেছে চিরসবুজ। ছন্দের ঝংকার, ভাষার প্রাণবন্ততা আর হাস্যরসের অপূর্ব মিশেলে “লিচু চোর” শুধু একটি ছড়া নয়—এটি বাংলা শিশুমনের এক আনন্দলোক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমান জনপ্রিয় এই ছড়াটি আজও ছোটদের মুখে মুখে ফেরে, বড়দের মনেও জাগিয়ে তোলে শৈশবের মিষ্টি স্মৃতি। পাঠকদের জন্য ছড়াটি তুলে ধরা হলো-
লিচু চোর
– কাজী নজরুল ইসলাম
বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া,
বলি থাম একটু দাড়া।
পুকুরের ঐ কাছে না
লিচুর এক গাছ আছে না
হোথা না আস্তে গিয়ে
য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে
গাছে গো যেই চড়েছি
ছোট এক ডাল ধরেছি,
ও বাবা মড়াত করে
পড়েছি সরাত জোরে।
পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,
সে ছিল গাছের আড়েই।
ব্যাটা ভাই বড় নচ্ছার,
ধুমাধুম গোটা দুচ্চার
দিলে খুব কিল ও ঘুষি
একদম জোরসে ঠুসি।
আমিও বাগিয়ে থাপড়
দে হাওয়া চাপিয়ে কাপড়
লাফিয়ে ডিঙনু দেয়াল,
দেখি এক ভিটরে শেয়াল!
আরে ধ্যাত শেয়াল কোথা?
ভেলোটা দাঁড়িয়ে হোথা!
দেখে যেই আঁতকে ওঠা
কুকুরও জুড়লে ছোটা!
আমি কই কম্ব কাবার
কুকুরেই করবে সাবাড়!
‘বাবা গো মা গো’ বলে
পাঁচিলের ফোঁকল গলে
ঢুকি গ্যে বোসদের ঘরে,
যেন প্রাণ আসল ধড়ে!
যাব ফের? কান মলি ভাই,
চুরিতে আর যদি যাই!
তবে মোর নামই মিছা!
কুকুরের চামড়া খিঁচা
সে কি ভাই যায় রে ভুলা-
মালির ঐ পিটুনিগুলা!
কি বলিস ফের হপ্তা!
তৌবা-নাক খপ্তা। #
