রামিসা হত্যা: চার্জশিটে উঠে এলো খুনির বর্বরোচিত নিষ্ঠুরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:২৭ পিএম, ২৫ মে ২০২৬ সোমবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মাত্র পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। দ্রুত তদন্ত শেষ হওয়ায় মামলাটি এখন দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্লবী থানা থেকে তদন্ত শেষে উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান গতকাল ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয় এবং বিচারক মাসরুর সালেকিন তা গ্রহণ করেন। আদালত আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।
মামলার প্রধান আসামি অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা এবং আসামিকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে আজিজুর রহমান দুলুকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসামিপক্ষের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহ দায়িত্ব পেয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে সকালে বাসার পাশের ঘরের শিশু রামিসাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে আসামি সোহেল রানা তার ওপর নির্যাতন চালায়। পরে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার শরীরের আঘাতগুলো মৃত্যুর আগে সংঘটিত হয়েছিল।
অভিযোগপত্রে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথাও উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়, ঘটনার সময় বাসায় থাকা অবস্থায় সে শিশুটিকে ডেকে নেয় এবং পরে নির্যাতনের পর সে অচেতন হয়ে পড়ে। ঘটনার পর আসামি পালানোর চেষ্টা করে বলে জবানবন্দিতে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তার স্ত্রী তাকে পালাতে সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে টানা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
সরকারি পর্যায়ে এই মামলাকে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভব হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত তদন্ত ও চার্জশিট দাখিল বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরি।
