আরাফাতের ময়দানে লাখো প্রাণের সমাবেশ, ধ্বনিত হচ্ছে ‘লাব্বাইক’
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:১৬ পিএম, ২৬ মে ২০২৬ মঙ্গলবার
ছবি: সংগ্রহিত।
আজ পবিত্র হজের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হচ্ছেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসল্লি। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে হৃদয়স্পর্শী তাওহিদের ধ্বনি— “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”। যার মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ ও আনুগত্যের ঘোষণা দিচ্ছেন হজযাত্রীরা।
হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় গতকাল মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে। মক্কা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের সেই তাঁবুর শহর রাতভর ইবাদত, দোয়া ও তেলাওয়াতে মুখর ছিল। মঙ্গলবার ফজরের পর সাদা ইহরামে আবৃত হাজিরা ধীরে ধীরে রওনা হন আরাফাতের উদ্দেশে।
ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজের মূল ফরজ হিসেবে বিবেচিত হয় আরাফাতে অবস্থান। তাই এই দিনকে ঘিরেই থাকে হজের সবচেয়ে গভীর আধ্যাত্মিক আবহ। এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবে সমবেত হয়েছেন। ভাষা, বর্ণ ও জাতিগত ভিন্নতা ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা কামনায় মগ্ন।
মুসলিম বিশ্বের কাছে আরাফাতের ময়দানের রয়েছে বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব। প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে এখানেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত প্রান্তর আজও মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা প্রার্থনার এক অনন্য স্থান।
আজ মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হবে। এরপর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে দোয়া, জিকির ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে সময় কাটাবেন। নিজেদের গুনাহ মাফের পাশাপাশি পরিবার, দেশ ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করবেন তারা।
হাদিসে আরাফাতের দিনের মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এদিন আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন এবং রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা রওনা হবেন মুজদালিফার পথে। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন ও শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করবেন তারা। পরে মিনায় ফিরে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে পূর্ণতা পাবে এবারের পবিত্র হজ।
