ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫৩:১৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

নতুন এলনিনোর শঙ্কা, বাড়তে পারে খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৫:৪৩ পিএম, ২৬ মে ২০২৬ মঙ্গলবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

বিশ্বজুড়ে আবারও ভয়াবহ এক এল নিনোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতা এবার এমন এক শক্তিশালী এল নিনো তৈরি করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি, কৃষি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।

ইতিহাস বলছে, বড় ধরনের এল নিনো শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তনই আনে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে খরা, বন্যা, খাদ্যসংকট ও সামাজিক অস্থিরতা। ১৮৭৭-৭৮ সালের এল নিনোকে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কারণ হিসেবে ধরা হয়। সে সময় এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে ১৯৮২, ১৯৯৭ ও ২০১৫ সালের শক্তিশালী এল নিনো ঘটনাগুলোকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অতীতের প্রতিটি বড় এল নিনো বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি ডেকে এনেছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এই ঝুঁকিকে আরও জটিল করে তুলছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সার সংকট ইতোমধ্যেই কৃষি উৎপাদনে চাপ সৃষ্টি করেছে। ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী এল নিনো দেখা দিলে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও ক্ষুধা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। কৃষিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আধুনিক প্রযুক্তি, আবহাওয়ার উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা এবং খাদ্য মজুদ ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় বিশ্বকে কিছুটা প্রস্তুত রেখেছে। তবুও গবেষকদের মতে, অর্থনৈতিক বৈষম্য, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে দুর্বল হয়ে পড়া সমাজগুলোতে এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি আঘাত হানতে পারে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি আবহাওয়াগত ঘটনা নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।