বৃষ্টির কারণে রাজধানীর হাটে গরুর দাম পড়ে গেছে
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:০১ পিএম, ২৭ মে ২০২৬ বুধবার
বৃষ্টির কারণে রাজধানীর হাটে গরুর দাম পড়ে গেছে
টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে কমেছে ক্রেতার উপস্থিতি। কাদা-পানি আর দুর্ভোগের কারণে অনেকেই হাটে যেতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে বিক্রি কমে যাওয়ায় গরুর দামও কিছুটা কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গরুর বাজারে দরপতনের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।
রাজধানীর গাবতলী, আফতাবনগর ও মেরাদিয়া হাট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় হাটে মানুষের ভিড় তুলনামূলক কম। অনেক গরু দীর্ঘ সময় ধরে অবিক্রীত থাকছে। ফলে বিক্রেতারা আগের চেয়ে কম দামেও গরু ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
গাবতলী হাটে কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন ধরে বৃষ্টির কারণে বেচাকেনা খুব খারাপ। মানুষ হাটে আসতেছে কম। যে গরু ২ লাখ টাকা চাইছিলাম, এখন ১ লাখ ৭০ হাজার বললেও ক্রেতা পাওয়া কঠিন।”
আফতাবনগর হাটের আরেক বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, “খাবারের খরচ, ট্রাক ভাড়া সব মিলিয়ে চাপ বাড়তেছে। তাই শেষদিকে এসে কম লাভে হলেও গরু বিক্রি করতে হবে।”
অন্যদিকে ক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, বৃষ্টির কারণে হাটে কষ্ট হলেও দাম কিছুটা কমায় তারা সুবিধা পাচ্ছেন।
মোহাম্মদপুর থেকে গরু কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নাঈম হাসান বলেন, “গত সপ্তাহে যে গরুর দাম বেশি ছিল, এখন একই ধরনের গরু ২০-৩০ হাজার টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে হয়তো দাম এতটা নামত না।”
মিরপুরের বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “হাটে কাদা অনেক, হাঁটাচলা কঠিন। তবে বিক্রেতারা এখন দরদামে অনেকটা ছাড় দিচ্ছেন।”
হাট ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বেচাকেনা কিছুটা ধীরগতির। তবে ঈদের আগের দুই দিনে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তখন ক্রেতার চাপ বাড়লে দাম আবার কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে পশুর হাটে কাদা ও পানি জমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। অনেক হাটে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও শেষ মুহূর্তে ভালো দামের আশায় হাট ছাড়ছেন না বিক্রেতারা।
