ত্যাগের মহিমায় পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৯:২০ এএম, ২৮ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি, মানবতা ও মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের শিক্ষা নিয়ে এসেছে এই পবিত্র দিন।
সকাল থেকেই দেশের শহর, বন্দর ও গ্রামাঞ্চলের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নামে। ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি দেন।
পবিত্র ঈদুল আজহার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে হজের মহান ইবাদত। চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হাজি মক্কা ও আশপাশের পবিত্র স্থানগুলোতে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন। গত মঙ্গলবার হাজিরা আরাফাতের ময়দান-এ সমবেত হয়ে হজের অন্যতম প্রধান ফরজ আদায় করেন। পরে তারা মুজদালিফা হয়ে মিনায় অবস্থান নেন এবং শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। স্থানীয় হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী সৌদি আরবে বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে।
কোরবানির ইতিহাস ও তাৎপর্য
ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা এসেছে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য আত্মত্যাগের ঘটনা থেকে। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় পুত্রকে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। এটি ছিল তাঁর প্রতি মহান আল্লাহর এক কঠিন পরীক্ষা। তিনি নিঃসংকোচে সেই আদেশ পালনে প্রস্তুত হন। পরে আল্লাহর পক্ষ থেকে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির ব্যবস্থা করা হয়। সেই ঘটনার স্মরণেই মুসলমানদের জন্য কোরবানির বিধান চালু হয়েছে।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বাসহ নির্ধারিত হালাল পশু কোরবানি করা যায়। পবিত্র কোরআনের আল কোরআন-এর সুরা কাউসারে নামাজ ও কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই।
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের প্রধান ঈদ জামাত। এতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বের নিপীড়িত মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জাতীয় ঈদগাহে প্রতিকূল আবহাওয়া দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত আয়োজনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল। জাতীয় মসজিদে এবার মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে— সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা-য় সকাল সাড়ে ৭টায় আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
শোলাকিয়া ও গোর-এ-শহীদে মুসল্লিদের ঢল
রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে শোলাকিয়া ঈদগাহ এবং গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান-এ। দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে এসব ঈদগাহ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিনে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ তরিকুল নেওয়াজ কবীর জানিয়েছেন, ঢাকায় দিনের দ্বিতীয়ভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।
শুভেচ্ছা বার্তা ও বিশেষ আয়োজন
ঈদ উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসী এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে ঈদুল আজহার ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষাকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ঈদ উপলক্ষে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। দেশের টেলিভিশন চ্যানেল, বেতার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করেছে ঈদ সংখ্যা।
এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুসদন ও আশ্রয়কেন্দ্রে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত ও উৎসবকে কেন্দ্র করে র্যাব, পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
