সুন্দরবনে ৩ মাসের জন্য পর্যটক-জেলে কারও প্রবেশ নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:০৮ পিএম, ১ জুন ২০২৬ সোমবার
ছবি: সংগ্রহিত।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে প্রাণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ দিতে আগামী তিন মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এর দুয়ার। জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ।
এই সময়ে জেলে, বাওয়াল, মৌয়াল থেকে শুরু করে পর্যটক—কেউই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি বন্ধ থাকবে বনাঞ্চলে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় সব পাস ও পারমিট ইস্যু কার্যক্রম।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে আগস্ট সুন্দরবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নদী-খালে ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণীর প্রজনন ঘটে এবং বনজ উদ্ভিদের বীজ থেকে নতুন চারা জন্ম নেয়। মানুষের চলাচল, নৌযানের শব্দ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড এসব প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
তাই প্রতিবছরের মতো এবারও বনকে নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ দিতে তিন মাসের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে তিন মাসের জন্য সুন্দরবনের পর্যটন কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়বে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের ফরেস্টার এরফান উদ্দীন বলেন, “জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় সুন্দরবন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ যৌথভাবে টহল ও নজরদারি চালাবে। নির্দেশনা অমান্য করে কেউ বনে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকৃতি রক্ষার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও উদ্বেগে রয়েছেন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে, বাওয়াল ও মৌয়াল। তিন মাস মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ থাকায় তাদের আয়ের প্রধান উৎসও বন্ধ হয়ে যাবে।
বাওয়াল আশিকুর রহমান বলেন, “বনের গাছপালা ও বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। তবে বননির্ভর মানুষের কথাও বিবেচনা করা উচিত। এই সময়ে কিছু সহায়তা পেলে আমরা উপকৃত হতাম।”
বুড়িগোয়ালিনীর জেলে হোসেন আলী বলেন, “সুন্দরবনই আমাদের জীবিকার প্রধান ভরসা। তিন মাস বনে যেতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও বন ও মাছের স্বার্থে আমরা সিদ্ধান্তটি মেনে নিচ্ছি।”
আরেক জেলে মিজানুর রহমান বলেন, “প্রতিবছর এই সময়ে আয়-রোজগার কমে যায়। অনেককে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। সরকারিভাবে সহায়তা পেলে কিছুটা স্বস্তি মিলত।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।
