মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় আবারও কমল স্বর্ণের দাম
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:২৭ এএম, ২ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
ফাইল ছবি।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। একই সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর সোমবার (১ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৫১ দশমিক ৬৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৯ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে চাহিদা কমে যায়।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকতে পারে— এমন প্রত্যাশা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কারণ সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ উচ্চ সুদের পরিবেশে তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।
এদিকে সপ্তাহান্তে ইরানের সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করার খবরও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে এখন ধারণা করা হচ্ছে যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত একবার সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৫৬ শতাংশ।
তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, বন্ডের মুনাফা হার স্থিতিশীল হলে বা সুদের হার কমার ইঙ্গিত মিললে স্বর্ণের বাজারে আবারও ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে আসতে পারে।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত হলে এবং জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলে বিনিয়োগকারীরা আবারও দীর্ঘমেয়াদি মৌলিক অর্থনৈতিক সূচকের দিকে নজর দেবেন, যা স্বর্ণের বাজারকে সমর্থন জোগাতে পারে। তিনি আরও বলেন, আগামী বছরগুলোতেও বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণের বড় ক্রেতা হিসেবে বাজারে সক্রিয় থাকবে।
অন্যদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন অব্যাহত রয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৩ দশমিক ৯৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০৮ দশমিক ৯১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৪৩ দশমিক ৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
