রামিসা হত্যা: দোষির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি রামিসার বাবার
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৫০ এএম, ২ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী উপস্থিত থাকেন, যাদের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা রয়েছেন।
এর আগে সকাল পৌনে নয়টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে পৃথক কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
এর আগে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার মা সন্দেহজনকভাবে আসামির রুমের সামনে জুতা দেখতে পান।
পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ মেঝেতে এবং মাথা একটি বালতির মধ্যে পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
২০ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জন সাক্ষী রয়েছে।
