রামিসা হত্যা মামলা: আত্মপক্ষ সমর্থন শেষ, যুক্তিতর্ক কাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:২৯ পিএম, ৩ জুন ২০২৬ বুধবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে। আজ বুধবার (৩ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন।
শুনানির দিন সকালে প্রধান আসামি সোহেল রানা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানা এবং ১০টা ৫৭ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক আদালতের কার্যক্রম শুরু করেন।
শুনানিতে বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণের সারসংক্ষেপ আসামিদের সামনে পড়ে শোনান এবং তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। এ সময় আদালত জানতে চান আসামিদের কিছু বলার আছে কি না।
প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য একজনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাকে ধরতে পারলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে আংশিকভাবে দায় স্বীকারের কথাও বলেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার একটি ছোট সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এ ঘটনায় সম্পূর্ণ নির্দোষ।
অন্যদিকে স্বপ্না আক্তারও নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি আদালতে বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি নির্দোষ।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু শুনানিতে অংশ নেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীও উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্যের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৪ মে পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালে স্থানান্তর করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।
আত্মপক্ষ সমর্থন শেষ হওয়ায় এখন মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পরবর্তী শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ তাদের চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন করবে বলে জানা গেছে।
