ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৫১:০২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

খানজাহান আলী (রহ:) মাজারের দিঘির কুমিরটি সরিয়ে নেয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৪১ পিএম, ৩ জুন ২০২৬ বুধবার

খানজাহান আলী (রহ:) মাজারের দিঘির সেই কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

খানজাহান আলী (রহ:) মাজারের দিঘির সেই কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের হামলায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর জনস্বার্থে দিঘির কুমিরটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতে মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শরীফ খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, মাজারের খাদেম, সাংবাদিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মাজার এলাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং কুমির সংরক্ষণের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আপাতাতো সরিয়ে নিযে পরবর্তীতে নিরাপত্তা বেস্টনি তৈরি করে কুমরিটি ফিরিয়ে আনা হবে।

সম্প্রতি মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে আট বছরের শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই দর্শনার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন মহল থেকে দিঘির কুমিরগুলো নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠতে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশাসন, বন বিভাগ ও মাজার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে জরুরি সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দিঘির কুমিরটি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, খান জাহান আলী (রহ.) মাজার দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ও ভক্তের সমাগম ঘটে। তাই ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।