ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১৬:৩৫:৫৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রামিসা হত্যা মামলা: সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৪০ পিএম, ৪ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

রাজধানীর আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এ দাবি জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু।

বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে স্বপ্না অপরাধ প্রতিরোধ না করে হত্যাকাণ্ডের পর আলামত গোপন, মরদেহ লুকাতে সহায়তা এবং সোহেলকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, মামলার ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রত্যেকেই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে একে অপরের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। মামলার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য আসামিপক্ষ বিভিন্ন দাবি তুললেও সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই বলেও তিনি আদালতকে জানান।

তিনি আরও বলেন, আসামি সোহেল রানা পরবর্তী সময়ে যেসব নতুন বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলো মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত ও বিভ্রান্ত করার কৌশল। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এসব দাবি করেননি।

এর আগে গত ২৪ মে পুলিশ সোহেল রানা ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। অভিযোগপত্রে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা ওই ফ্ল্যাটের সামনে জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত চলাকালে সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তদন্তে জানা যায়, মাদকাসক্ত সোহেল বিকৃত যৌন প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে এ নৃশংস অপরাধ সংঘটিত করেন। মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।