ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১৭:৫৯:৪৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

১৪ বছরের অগাস্টিনার হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:০২ পিএম, ৪ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

আর্জেন্টিনার কর্ডোবা শহরে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী অগাস্টিনা ভেগাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। এক দশক আগে চিয়ারা পায়েজ হত্যাকাণ্ডের পর যে ‘নি উনা মেনোস’ (একটি নারীও কম নয়) আন্দোলন লাতিন আমেরিকাজুড়ে নারী অধিকার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, অগাস্টিনার মৃত্যু সেই স্মৃতিকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ মে অগাস্টিনা তার মায়ের জন্য একটি উপহার আনতে পরিচিত এক ব্যক্তির বাড়িতে যায়। অভিযোগ, সেখানে ৩৩ বছর বয়সী ক্লডিও ব্যারেলিয়া তাকে যৌন নিপীড়নের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলে রাখা হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর একটি ড্রেন থেকে কিশোরীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানী বুয়েনস আইরেসসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা শুধু হত্যাকারীর কঠোর শাস্তিই নয়, বরং নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

অগাস্টিনার পরিবারের আইনজীবী গুস্তাভো ভাকা অভিযোগ করেছেন, মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও পুলিশ যথাসময়ে চাইল্ড অ্যালার্ট জারি করেনি। এমনকি একজন ট্যাক্সিচালক ও সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পরও অভিযান চালাতে কয়েক দিন বিলম্ব করা হয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত ক্লডিও ব্যারেলিয়া অতীতেও অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পায়। এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে।

বিক্ষোভকারীদের আরেকটি বড় অভিযোগ বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, নারী সুরক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি ও সহায়তা ব্যবস্থা কমিয়ে দেওয়ায় নারীরা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এদিকে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ‘ফেমিসাইড’ বা লিঙ্গভিত্তিক নারীহত্যা হিসেবে আখ্যা দিতে অনাগ্রহ দেখানোয় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। আর্জেন্টিনার আইনে ফেমিসাইডের শাস্তি বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, চলতি বছর দেশটিতে নারীহত্যার প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। তাদের অভিযোগ, অনেক ঘটনাকে ফেমিসাইড হিসেবে নথিভুক্ত না করায় প্রকৃত চিত্র আড়াল হচ্ছে।

বুধবার বুয়েনস আইরেসে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে অংশ নিয়ে ১৭ বছর বয়সী মিলেনা নামের এক তরুণী বলেন, “আমি শুধু নিজের জন্য নয়, আমার ছোট বোন এবং সব নারীর নিরাপত্তার জন্য লড়ছি।”

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আর্জেন্টিনার কর্মকর্তারা বলছেন, যে অধিকার ও নিরাপত্তাকে একসময় অর্জিত মনে করা হয়েছিল, এখন সেগুলো রক্ষার জন্য আবারও নতুন করে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। অগাস্টিনার মর্মান্তিক মৃত্যু সেই সংগ্রামকে আরও জোরালো করে তুলেছে।