ঈদ-পরবর্তী স্বস্তি, তবু মাছের বাজারে আগুন
জোসেফ সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:১১ এএম, ৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার
ফাইল ছবি।
ঢাকার কাঁচাবাজারে এখন ঈদ-পরবর্তী ভিন্ন এক চিত্র। ক্রেতা কম, অনেক দোকান এখনো পুরোপুরি খোলেনি। ফলে বেশিরভাগ সবজির দাম কিছুটা কমে এসেছে। তবে মাছের বাজারে সেই স্বস্তি নেই। সরবরাহ কম থাকায় বেশিরভাগ মাছই এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। আর কোরবানির মাংস ঘরে মজুত থাকায় মুরগি ও ডিমের বাজারে দেখা গেছে মূল্যহ্রাস।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়শ প্রতি কেজি ৪০ টাকা, পেঁপে, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও পটল ৬০ টাকা, করলা ও বরবটি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় এবং কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ঈদের আগে যে সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা ছিল, এখন তা কিছুটা কমেছে। তবে তাদের অভিযোগ, দাম কমলেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে এখনও পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ইলিশ, রুই, কাতলা, পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দাম ঈদের আগের অবস্থানেই রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, নদী ও খামার থেকে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম কমছে না। ক্রেতার উপস্থিতিও তুলনামূলক কম।
অন্যদিকে মুরগি ও ডিমের বাজারে মিলেছে স্বস্তির খবর। ব্রয়লার মুরগি এখন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, সোনালি ৩৬০ টাকা এবং কক মুরগি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও কিছুটা কমে ডজনপ্রতি প্রায় ১৩৫ টাকায় নেমে এসেছে। ঈদের আগে এসব পণ্যের দাম আরও বেশি ছিল।
নিত্যপণ্যের বাজারে চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। সরু চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা, মাঝারি চাল ৬০ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৮৬ থেকে ১৯৫ টাকা এবং বোতলজাত তেল ১৯৫ থেকে ১৯৯ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের মতে, ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন সবজির সরবরাহ আসায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে আগামী সপ্তাহে মানুষ ঢাকায় ফিরলে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামেরও পরিবর্তন হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ঈদ-পরবর্তী সময়ে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজি, মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছের বাজার এখনও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। বাজারে এই স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে সরবরাহ ও চাহিদার পরবর্তী অবস্থার ওপর।
