ঢাকা, শুক্রবার ০৫, জুন ২০২৬ ১৫:১০:৫৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

অবশেষে ‘খোঁজ’ মিলল দুবাই রাজপরিবারের সাবেক পুত্রবধূর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১৯ এএম, ৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার

জায়নাব জাভাদলি ২০১৯ সালে শেখ সাঈদ বিন মাকতুম বিন রশিদ আল মাকতুমকে তালাক দেন। ফাইল ছবি

জায়নাব জাভাদলি ২০১৯ সালে শেখ সাঈদ বিন মাকতুম বিন রশিদ আল মাকতুমকে তালাক দেন। ফাইল ছবি

দুবাইয়ের শাসকের এক ভাইয়ের ছেলের সাবেক স্ত্রী ও আজারবাইজানের সাবেক আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্ট জয়নাব জাভাদলিকে আটক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কর্তৃপক্ষ। দুবাই পাবলিক প্রসিকিউশন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছে, জেনাবের সাবেক স্বামী শেখ সাইদ বিন মাকতুম বিন রশিদ আল মাকতুমের দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

শেখ সাইদ দুবাইয়ের বর্তমান শাসকের ভাইপো ও জয়নাবের তিন সন্তানের জনক। সাবেক স্বামীর অভিযোগ, আদালত অনুমোদিত একটি পারিবারিক সাক্ষাৎ পর্ব চলাকালীন জেনাব জাভাদলি তাদের সন্তানদের অবৈধভাবে অপহরণ বা আত্মসাৎ করেছেন।

গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত থেকে জয়নাব জাভাদলির পরিবার ও বন্ধুরা তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। আচমকা তিনি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় তার অবস্থান নিয়ে চারদিকে উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রায় দুই দিন ধরে জয়নাব কিংবা তার সন্তানদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে দুবাই পাবলিক প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার আটকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। দীর্ঘদিন ধরেই সন্তানদের নিজের কাছে রাখা নিয়ে সাবেক স্বামীর সঙ্গে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন এই সাবেক অ্যাথলেট।

জয়নাবের ঘনিষ্ঠদের দাবি, দুবাইয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যেকোনো সময় তার সন্তানদের কেড়ে নিতে পারে এবং তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে— এমন চরম আতঙ্কের কারণে গত কয়েক মাস ধরে তিনি ঘর থেকে খুব একটা বের হতেন না। 

দুই বছর ধরে এই সাবেক দম্পতির মধ্যে সন্তানদের অধিকার নিয়ে দফায় দফায় টানাটানি চলছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে সন্তান অপহরণের অভিযোগও এনেছেন একাধিকবার। এর মধ্যে গত বছর সন্তানদের হাতছাড়া হওয়ার একটি মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি লাইভস্ট্রিম (সরাসরি সম্প্রচার) করেছিলে জয়নাব। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কঠোর ইন্টারনেট আইন বা ‘ই-ক্রাইম’ নীতিমালার অধীনে সেই লাইভস্ট্রিমের কারণেও তিনি আইনি জটিলতা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি ছিলেন।  

ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী ডেভিড হেইগের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নিজের সেই পদক্ষেপের পক্ষে জয়নাব বলেছিলেন, আমি জানতাম আমার সন্তানদের সঙ্গে থাকার জন্য ওটাই আমার শেষ সুযোগ ছিল, কারণ ওরা আমাকে আর কখনোই ওদের দেখতে দিত না। আমি মন থেকে বিশ্বাস করেছিলাম যে ওটাই শেষ পথ, তাই আমি লাইভস্ট্রিম চালু করে সবার কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম। 

সন্তানদের অভিভাবকত্ব বা কাস্টডি নিয়ে চলা শুনানিতে শেখ সাইদের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, জয়নাব একজন মা হিসেবে উপযুক্ত নন। তারা অভিযোগ করেন, জয়নাব তার কন্যাসন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন, হোটেলে থাকার সময় শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত পরিবেশে বসবাস করেছেন। তার অবহেলার কারণে ছোট মেয়ের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে দুবাই পাবলিক প্রসিকিউশন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং এটি একটি চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখব। তবে একই সঙ্গে শিশুদের কল্যাণ এবং সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিও আমাদের অগ্রাধিকার।

অন্যদিকে, জয়নাবের পক্ষে লড়াই করা মানবাধিকার কর্মী ডেভিড হেইগ অবিলম্বে জয়নাবের সঙ্গে তার আইনজীবী, কনস্যুলেট ও পরিবারের যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাকে দুবাইয়ে নিজের বাড়িতে সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমিরাত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।