বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ব্যাপক পতন
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৩:২১ পিএম, ৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার
ফাইল ছবি।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ইরানকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার আরও বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কার প্রভাবে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম কমেছে। সাপ্তাহিক হিসাবেও স্বর্ণ বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪৫ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে আসে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭১ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং লেবাননে নতুন করে যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। ফলে স্বর্ণবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, ইরান সংকটের সমাধান নিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনাও মূল্যবান ধাতুটির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। এ কারণে ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।
শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৫১ শতাংশ বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের নন-ফার্ম পে-রোল বা কৃষি খাতের বাইরে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে বাজার।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমে এসেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৮০ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯৮ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতিকে ঘিরে উদ্বেগ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহেও আন্তর্জাতিক মূল্যবান ধাতুর বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স
