ঢাকা, শনিবার ০৬, জুন ২০২৬ ১৮:৩৮:১৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মরণোত্তর জাতিসংঘ পদকে ভূষিত বাংলাদেশের ৬ বীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:১১ পিএম, ৬ জুন ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে সম্মানিত করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের অসামান্য সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পদকগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষে পদক গ্রহণের জন্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে সেগুলো হস্তান্তর করেন।

সম্মানপ্রাপ্ত ছয় সদস্য সুদানের কাদুগলি এলাকায় জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-এর অধীনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত অবস্থায় একটি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।

মরণোত্তর এই স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন, করপোরাল মো. মাসুদ রানা এবং প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা ও সান্তো মণ্ডল।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পাশাপাশি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্বের ৩৩টি দেশের মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য, ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগে চালু করা হয়। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়।