রামিসা হত্যা মামলার রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে: আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৩:৩৯ পিএম, ৭ জুন ২০২৬ রবিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রামিসা হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, রামিসার এই বেদনাদায়ক ঘটনায় নিম্ন আদালত যে রায় দিয়েছেন, এতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। এ রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে বলে আশা রাখি।
আজ রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসার ঘটনায় পুরো জাতি বেদনাহত ছিল। তবে বিচার হলেও রামিসাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এরপরও সরকার তার দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তিনি জানান, ১৯ মে ঘটনাটি ঘটে এবং তদন্ত শেষে ২৪ মে’র মধ্যেই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
তিনি বলেন, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ছিল। পাশাপাশি নিম্ন আদালতগুলোও ১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ছুটিতে ছিল। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী এক মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেন। এজন্য নিম্ন আদালতের ছুটি বাতিলের প্রস্তাব পাঠানো হলে প্রধান বিচারপতি সম্মতি দেন যে শিশু ট্রাইব্যুনাল ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। এর ফলে অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি দ্রুত ট্রাইব্যুনালে পাঠানো সম্ভব হয়।
আসাদুজ্জামান বলেন, ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে মামলার বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এটিকে দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘‘এই উপমহাদেশে নদীয়ায় একবার এক দিনে একটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছিল। সেই তুলনায় এটিও একটি ব্যতিক্রমী দ্রুত বিচার।’’
তিনি আরও বলেন, ঘোষিত শাস্তিতে সরকার আপাতত সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতে মামলাটি গেলেও এ রায় বহাল থাকবে বলে তিনি আশা করছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, সাত দিনের মধ্যে মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হবে। সেখানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলার নিয়ম অনুযায়ী পেপারবুক প্রস্তুত করা হবে, যা সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে মামলাটির শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে।
তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল থাকাকালে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে তিনি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর একটি ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা এবং অন্যটি বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা।
রামিসা হত্যা মামলার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। যত দ্রুত সম্ভব এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
রায় কার্যকর না হওয়ায় সমাজে এ ধরনের অপরাধ বারবার ঘটছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি হতাশার একটি কারণ হতে পারে, তবে একমাত্র কারণ নয়।
তার মতে, রামিসার হত্যাকারী সোহেল রানা মানসিকভাবে একজন অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি। ঘটনার পর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও তিনি বিচারপ্রক্রিয়া ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার নথিতে নাম নেই এমন একজনকে জড়ানোর চেষ্টা করে সোহেল বিচার বিলম্বিত করতে চেয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল সময়ক্ষেপণ করা এবং মানুষ যাতে ঘটনাটি ভুলে যায়, সেই সুযোগ তৈরি করা।
তবে সরকার ও বিচারিক কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই বিচার কার্যক্রমের প্রতি মনোযোগী ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
