বাম্পার ফলন আমের: ২৭ লাখ টন ছাড়াতে পারে উৎপাদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৯:৪৯ পিএম, ৮ জুন ২০২৬ সোমবার
ছবি: সংগ্রহিত।
অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত মুকুল এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় চলতি মৌসুমে দেশে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে আমের উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ ফলন হবে।
দেশের প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলের বাগানগুলোতে এ বছর গাছে গাছে আমের প্রাচুর্য দেখা গেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুল ঝরে পড়ার হার কম ছিল। ফলে অধিকাংশ বাগানেই ফলন ভালো হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে বাংলাদেশি আম রপ্তানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ২৫ লাখ ৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি মৌসুমে সেই উৎপাদন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত জাতের বিস্তার এবং কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে আমের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ফলের বাজারে ইতোমধ্যে গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরসাপাত, আম্রপালি ও ল্যাংড়া জাতের আম উঠতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে আমের সরবরাহ আরও বাড়বে এবং দামও ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে থাকবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদনের পাশাপাশি নিরাপদ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও রপ্তানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
