ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে টাকার নৈরাজ্য, নেই নিয়ম-নীতির বালাই
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৩৩ এএম, ৯ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
দেশে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের টাকার নৈরাজ্য, নেই কোনো নিয়ম-নীতির বালাই
দেশে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর ফি নির্ধারণ ও আদায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। ভর্তি ফি, টিউশন ফি, বার্ষিক উন্নয়ন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, পরীক্ষার ফি, প্রযুক্তি ফি, পরিবহন ফিসহ নানা খাতে বিপুল অর্থ আদায় করা হলেও এসব ফি নির্ধারণে কোনো অভিন্ন নীতিমালা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শিক্ষার মানের চেয়ে আর্থিক সক্ষমতাই অনেক ক্ষেত্রে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার প্রধান শর্ত হয়ে উঠছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে গিয়ে অনেক অভিভাবককে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রতি মাসের টিউশন ফি, বই, ইউনিফর্ম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ হয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক স্কুল প্রতিবছর কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই ফি বৃদ্ধি করে। নতুন সেশন শুরুর আগে হঠাৎ করেই টিউশন ফি ও অন্যান্য চার্জ বাড়ানো হয়। এ বিষয়ে আপত্তি জানালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের মতামত নেওয়া হয় না। স্কুল পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং সন্তানের পড়াশোনার ধারাবাহিকতার কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এই খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই যথাযথ নজরদারির বাইরে রয়েছে। স্কুলগুলোর ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে অভিভাবকদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ফি ছাড়াও বিভিন্ন নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা দেখা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বই ও ইউনিফর্ম কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। এতে শিক্ষার ব্যয় আরও বেড়ে যায়।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর জন্য একটি সুস্পষ্ট জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। সেই সঙ্গে ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং অভিভাবকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
অভিভাবক ঐক্য পরিষদের কয়েকজন প্রতিনিধি বলেন, শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক মানসিকতার পরিবর্তে শিক্ষাসেবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারা ফি নির্ধারণে সরকারি নজরদারি ও নিয়মিত অডিটের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই খাতের বিস্তার ঘটেছে। তবে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ফি আদায়ে এক ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে অভিভাবকদেরই।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষার মান বজায় রাখার পাশাপাশি অভিভাবকদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
