আজ ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট পেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪৩ এএম, ১১ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার
প্রতীকী ছবি।
জাতীয় সংসদে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে পেশ করবেন। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট।
সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় এবারের বাজেটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন অর্থবছরের বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলের জন্য ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নতুন কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ লাখ নাগরিককে ‘ই-হেলথ কার্ড’ সুবিধার আওতায় আনা, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু এবং বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর বরাদ্দ বৃদ্ধি অন্যতম। নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য।
এছাড়া বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ও প্রণোদনা ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রেখে সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যুব উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন কর্মসূচিতে এই অর্থ ব্যয় করা হতে পারে।
ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার উদ্যোগও এবারের বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থায় সংস্কারের পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
