ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১১, জুন ২০২৬ ১৯:১০:২২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু কমছে না আলুর দাম

জোসেফ সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৩৬ পিএম, ১১ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

দেশের অন্যতম প্রধান নিত্যপণ্য আলুর বাজারে এখনও স্বস্তি ফিরছে না। মৌসুমে পর্যাপ্ত উৎপাদন এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে প্রতি কেজি আলু ৩০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জাত ও এলাকার ভেদে কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুরান আলুর পাশাপাশি হিমাগার থেকে বের হওয়া আলুও এখন বাজারে রয়েছে। তবে সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও দাম প্রত্যাশিত মাত্রায় কমেনি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁও এলাকার বাজারগুলোতে দেশি আলু প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তুলনামূলক ছোট আকারের বা কম মানের আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় পাওয়া গেলেও উন্নত মানের আলুর দাম ৪০ টাকার ওপরে।

ক্রেতারা বলছেন, আলু সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসার খাদ্য। মাছ, মাংস কিংবা সবজির দাম বাড়লে মানুষ আলুর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে আলুর দামও অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে বাজার করতে আসা এক গৃহিণী বলেন, “সবকিছুর দাম বেশি। আগে অন্তত আলু কিনে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত। এখন আলুর দামও বেশ চড়া। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

ব্যবসায়ীদের দাবি, কৃষকের কাছ থেকে আলু কম দামে সংগ্রহ করা হলেও হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক খরচ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার নানা ব্যয়ের কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্তরে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত বদলের কারণেও মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তারা জানান।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মৌসুমে দেশে আলুর উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর নজরদারি এবং সরবরাহ চেইনকে সুশৃঙ্খল করা গেলে ভোক্তারা কম দামে আলু কিনতে পারবেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আলুর মতো কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে উৎপাদক ও ভোক্তার দামের মধ্যে ব্যবধান কমানো জরুরি। কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পান এবং একই সঙ্গে ভোক্তাও সহনীয় দামে পণ্য কিনতে পারেন, সে জন্য বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

এদিকে সামনে বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে আলুর বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশ্বস্ত করে বলছেন, দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় নিকট ভবিষ্যতে আলুর সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের সম্ভাবনা নেই।

তারপরও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম যেন আরও কমে আসে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে।