ঢাকা, শুক্রবার ১২, জুন ২০২৬ ২০:৫৪:২৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

থাই রাজকুমারী দেব্যাভতি মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:৪৮ পিএম, ১২ জুন ২০২৬ শুক্রবার

থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের জ্যেষ্ঠ কন্যা রাজকুমারী বজরাকিটিয়াভা নরেন্দিরা দেব্যাভতি

থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের জ্যেষ্ঠ কন্যা রাজকুমারী বজরাকিটিয়াভা নরেন্দিরা দেব্যাভতি

থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের জ্যেষ্ঠ কন্যা রাজকুমারী বজরাকিটিয়াভা নরেন্দিরা দেব্যাভতি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় কোমায় থাকার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্যাংককের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তার মৃত্যুতে রাজপরিবারসহ পুরো থাইল্যান্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তার শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এবং গভীর কোমায় অবস্থান করছিলেন।

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় কুকুরদের সঙ্গে ব্যায়াম করার মুহূর্তে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন রাজকুমারী বজরাকিটিয়াভা। 

চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রে গুরুতর সংক্রমণ এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণে তিনি কোমায় চলে যান। এরপর জরুরি ভিত্তিতে তাকে হেলিকপ্টারে করে ব্যাংককের চুলালংকর্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রাজপ্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পেটে সংক্রমণ, কোলন প্রদাহ, নিম্ন রক্তচাপ এবং রক্ত জমাট বাঁধার মতো জটিলতা দেখা দিলে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। চিকিৎসা চললেও ধীরে ধীরে তার শরীরের প্রতিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

রাজকুমারী বজরাকিটিয়াভা ছিলেন থাই রাজপরিবারের অন্যতম শিক্ষিত ও প্রভাবশালী সদস্য। তিনি ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং রাজা ভাজিরালংকর্ন ও তার প্রথম স্ত্রী সোমসাওয়ালির জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন। উচ্চশিক্ষায় তিনি আইন বিষয়ে ডক্টরেট অর্জন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং থাইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘে থাইল্যান্ডের মিশনে কাজ করেছেন। অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। নারী অধিকার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।

রাজপরিবারের ভেতরে তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে দেখা হতো। তার মৃত্যু থাই রাজপরিবারের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, ধর্মীয় রীতি অনুসারে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

দীর্ঘদিন কোমায় থাকার পর এই অকাল মৃত্যু থাইল্যান্ডজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু মানুষ রাজকুমারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তার জীবন ও কর্মকে স্মরণ করছেন। 

তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, বিবিসি