চ্যাটজিপিটির প্রভাবে তরুণীর মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৮:৩৯ পিএম, ১৩ জুন ২০২৬ শনিবার
চ্যাটজিপিটির প্রভাবে তরুণীর মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা
কানাডার ২৪ বছর বয়সী ওয়েব ডেভেলপার অ্যালিস ক্যারিয়ারের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেন এআই। মেয়ের মৃত্যুর জন্য প্রতিষ্ঠানটির অবহেলাকে দায়ী করে আদালতে মামলা করেছেন অ্যালিসের মা ক্রিস্টি ক্যারিয়ার।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদ ও একাকীত্বে ভুগছিলেন অ্যালিস। চিকিৎসা ও থেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সংকট নিয়ে নিয়মিত চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলতেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আত্মহত্যার চিন্তা ও তা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে তিনি চ্যাটবটটির সঙ্গে বহুবার আলোচনা করেছিলেন।
ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের দাবি, চ্যাটজিপিটি প্রথমদিকে সংকটকালীন সহায়তা সেবার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। বরং কিছু কথোপকথনে চ্যাটবটটি এমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, যা অ্যালিসের মানসিক দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। মামলায় বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীর ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কিংবা পরিবারের কাউকে সতর্ক করেনি।
২০২৫ সালের ২ জুলাই অ্যালিস আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর স্বাভাবিক আচরণ দেখে পরিবারের সদস্যরা কোনো অস্বাভাবিকতার আভাস পাননি। পরে মেয়ের ডিভাইস ঘেঁটে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে হওয়া কথোপকথন দেখে হতবাক হন তাঁর মা।
ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে দায়ের করা মামলায় ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে অবহেলা, নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্কতা না দেওয়া এবং সংবেদনশীল ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, চ্যাটবটকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা এর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং এটিকে বাস্তব মানুষের মতো বিশ্বাস করতে শুরু করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মানসিক সংকট শনাক্ত করা, ক্ষতিকর অনুরোধ নিরাপদভাবে মোকাবিলা করা এবং প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীকে পেশাদার সহায়তার দিকে নির্দেশ করার জন্য তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আত্মহত্যা বা সহিংস আচরণের সঙ্গে এআই চ্যাটবটের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে একাধিক মামলা ও বিতর্ক সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আরও কঠোর নীতিমালা ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্রিস্টি ক্যারিয়ার। তাঁর ভাষায়, ‘‘আমার মেয়ের জীবন অমূল্য ছিল। আমি চাই না অন্য কোনো পরিবারকে একই ধরনের শোক বহন করতে হোক।’’
