ঢাকা, রবিবার ১৪, জুন ২০২৬ ১৭:৪৪:৫২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

চট্টগ্রামে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২১ পিএম, ১৪ জুন ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া পরিবারের ৫ বছর বয়সী শিশু পিয়াস বড়ুয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোববার (১৪ জুন) মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন— ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত শিশু পিয়াস বড়ুয়া (৫) তাদের ছেলে। পরিবারের কর্তা সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুরভী বড়ুয়া জানান, রাতে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে ঘরের দরজার সামনে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলে পিয়াসকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ঘরের ভেতরে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকেও গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে এনি বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রিয়ন্তীরও মৃত্যু হয়।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া জানান, ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রাম শহরে কর্মস্থলে ছিলেন। রাতে বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই লেনদেনসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্রের খোঁজে লিমন তাদের বাড়িতে এসে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে তার সন্দেহ। এছাড়া মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী লিমন বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।