ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: তেল সস্তা, এশিয়ার শেয়ার বাজার চাঙা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৫২ পিএম, ১৫ জুন ২০২৬ সোমবার
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি: কমল তেলের দাম, চাঙা এশিয়ার শেয়ারবাজার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৮১ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৯ ডলারে। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রোববার (১৪ জুন) জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে।
Advertisement
এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, তেল প্রবাহ আবারও স্বাভাবিক হোক।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা ভান্দানা হারি বলেছেন, চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনও প্রকাশ না হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হারি বলেন, চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের অভাব তেলের বাজারে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সংঘাত শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। যুদ্ধ চলাকালে তা বেড়ে ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহণ দ্রুত স্বাভাবিক হবে না। লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু লিপো বলেন, প্রণালিতে পেতে রাখা মাইন অপসারণে কয়েক সপ্তাহ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ তেলবাহী জাহাজের জট এবং উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে তেলের দাম কমার খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জাপানের নিক্কেই-২২৫ সূচক সোমবার সকালে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকও ৫ শতাংশের বেশি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলো এই সমঝোতা থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
