মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
কূটনৈতিক সংবাদদাতা
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪২ এএম, ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে তার এই বিদেশযাত্রা শুরু হবে। দুই দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে চীন যাবেন। সফর দুটিকে দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২১ জুন একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা ঢাকা ত্যাগ করবেন। মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও চলছে। বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
মালয়েশিয়া সফরে শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক সম্পর্কও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশটির বৃহৎ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এমএমসি পোর্টস, বিমান পরিবহন সংস্থা এয়ারএশিয়া এবং জ্বালানি জায়ান্ট পেট্রোনাস গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, বন্দর উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিমান খাতে সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।
সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনে আলমারহুম সুলতান ইসকান্দারের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন চীনের দালিয়ানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ সম্মেলনে অংশ নেবেন। ২৩ জুন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনেও অংশ নেবেন তিনি।
চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সফরকালে প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) শিল্প, প্রযুক্তি স্থানান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি। বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং বৃহৎ বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কয়েকটি মেগা প্রকল্পও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, যমুনা নদীর ওপর নতুন সেতু, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং চীনা অর্থায়নে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আর্থিক খাতেও নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। চীনা মুদ্রায় বন্ড ইস্যু, দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বাংলাদেশে চীনা ব্যাংক স্থাপনের মতো বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর চীনের কুনমিংয়ে তিন দেশের পররাষ্ট্র পর্যায়ের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও সেই উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পায়নি, তবুও নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবেই নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সফর দুটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
