বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন টোরি পেনসো
খেলাধুলা ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৮:৫৭ পিএম, ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার
টোরি পেনসো
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচে বাঁশি হাতে নেমে ইতিহাস গড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের টোরি পেনসো। পুরুষদের সিনিয়র বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করে তিনি নারী রেফারিদের অগ্রযাত্রায় নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুধু দুই দলের লড়াইয়ের জন্য নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলে নারীর অংশগ্রহণের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কারণেও বিশেষ গুরুত্ব পায়। দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদের ফুটবলে রেফারিং ছিল প্রায় পুরোপুরি পুরুষদের নিয়ন্ত্রণে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এখন নারী রেফারিরাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পাচ্ছেন।
সেই পরিবর্তনেরই উজ্জ্বল প্রতীক টোরি পেনসো। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম ম্যাচে তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় এবং নিয়ন্ত্রিত। ম্যাচজুড়ে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও খেলা পরিচালনা প্রশংসা কুড়িয়েছে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের কাছ থেকে। কোনো বড় বিতর্ক ছাড়াই তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
ফ্লোরিডায় জন্ম নেওয়া পেনসোর রেফারিং ক্যারিয়ারও বেশ সমৃদ্ধ। ২০২০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম নারী রেফারি হিসেবে ম্যাচ পরিচালনা করে আলোচনায় আসেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। ২০২৩ নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্বও পেয়েছিলেন তিনি, যা তাঁর পেশাদার জীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি।
২০২৬ বিশ্বকাপে নির্বাচিত নারী রেফারিদের মধ্যে অন্যতম পেনসো। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপে তাঁর সফল অভিষেক ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের অসংখ্য নারী রেফারির জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
বিশ্ব ফুটবলে নারী রেফারিদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। মাঠে তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করছে, দক্ষতা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ নেই। টোরি পেনসোর এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলে সমতা ও অন্তর্ভুক্তির এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
