ঢাকা, রবিবার ২১, জুন ২০২৬ ১৫:০৬:২৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইতালি, বাতিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৫৯ পিএম, ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক বিতর্কে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের করা এক মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ ও ‘মনগড়া’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রোম। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।

বিতর্কের সূত্রপাত ট্রাম্পের এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি সৌজন্যবশত সেই অনুরোধ রক্ষা করেন।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মেলোনি। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর নেতাদের সম্পর্কে এ ধরনের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য।

কড়া প্রতিক্রিয়ায় মেলোনি আরও বলেন, ইতালি কখনো কারও কাছে ভিক্ষা চায় না এবং তিনি নিজেও এমন কোনো আচরণ করেননি। তার এই বক্তব্য ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘গুরুতর অসম্মান’ বলে অভিহিত করেন। এর প্রতিবাদ হিসেবে তিনি তার নির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন। একই সঙ্গে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটন ও রোমের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থাকলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান সংকট, গাজা পরিস্থিতি এবং বাণিজ্য নীতি নিয়ে মতভেদের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ঘটনাটি সাময়িক উত্তেজনার জন্ম দিলেও দুই দেশই শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চাইবে। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য যে ইতালিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাতিলের সিদ্ধান্তে।