স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪৭ এএম, ২১ জুন ২০২৬ রবিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশটির একটি আদালত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে তাকে বিদেশ সফর থেকে বিরত থাকতে এবং পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেগোনা গোমেজকে মাসে দুইবার আদালতে হাজিরা দিতে হবে। এছাড়া তিনি যাতে স্পেন ত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য বিমানবন্দর, সীমান্ত চৌকি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদিও মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় ২০২৪ সালে। একটি দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের অভিযোগের পর তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মাদ্রিদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানের সুবিধা নেওয়া এবং প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন গোমেজ ও প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দলও দাবি করেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, গত দুই বছর ধরে সরকারবিরোধী মহল বিচারিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই ইস্যু ব্যবহার করছে।
এদিকে মামলাটি সামনে আসার পর স্পেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ আরও বেড়েছে। বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক দায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং আগাম নির্বাচনের দাবিও জোরালো করেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সরকারকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ উত্থাপন করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে ক্ষমতায় আসা সরকারের জন্য এই মামলা বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নাম বিভিন্ন তদন্তে উঠে আসায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া আগামী দিনে স্পেনের রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
