ঢাকা, রবিবার ২১, জুন ২০২৬ ১৮:৩৮:২৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আজ বাবা দিবস: ভালোবাসায় বাবাকে স্মরণের দিন

অনু সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৩৪ পিএম, ২১ জুন ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। সন্তানের জীবনে সবচেয়ে নির্ভরতার জায়গা, সাহসের উৎস এবং ছায়ার মতো পাশে থাকা মানুষটির প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ দিন। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ আজ নানা আয়োজনে স্মরণ করছেন তাদের বাবাকে—কেউ উপহার দিয়ে, কেউ একটি ফোনকল করে, কেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি জানিয়ে।

মায়ের ভালোবাসা যেমন প্রকাশ্য, বাবার ভালোবাসা অনেক সময় তেমন নীরব। সংসারের দায় কাঁধে নিয়ে, নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পেছনে একজন বাবার যে নিরন্তর সংগ্রাম, তা অনেক সময় চোখে পড়ে না। বাবা দিবস সেই নীরব ত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর একটি উপলক্ষ।

বাবা দিবসের ইতিহাস

বাবা দিবস পালনের ধারণার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহরে দিবসটি পালন করা হয়। এর উদ্যোগ নিয়েছিলেন সোনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী।

সোনোরার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট ছিলেন একজন যুদ্ধপ্রবীণ সৈনিক। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি একাই ছয় সন্তানকে লালন-পালন করেন। বাবার সেই আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেই সোনোরা একটি বিশেষ দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্বের যেসব দেশে পালিত হয়

বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে বাবা দিবস পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং বহু ইউরোপীয় দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস উদযাপন করা হয়।

তবে সব দেশে একই দিনে দিবসটি পালিত হয় না। যেমন—

স্পেনে ১৯ মার্চ বাবা দিবস পালিত হয়।
ইতালি ও পর্তুগালেও ১৯ মার্চ দিবসটি উদযাপিত হয়।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সেপ্টেম্বরের প্রথম রোববার পালিত হয়।
থাইল্যান্ডে ৫ ডিসেম্বর বাবা দিবস পালন করা হয়।
কেন বিশেষ এই দিন?

পরিবারে বাবার ভূমিকা শুধু উপার্জনকারী হিসেবে নয়, একজন শিক্ষক, বন্ধু, অভিভাবক এবং অনুপ্রেরণাদাতা হিসেবেও অপরিসীম। সন্তানের প্রথম স্কুল পরিবার, আর সেই স্কুলের অন্যতম প্রধান শিক্ষক বাবা।

জীবনের কঠিন সময়গুলোতে অনেক বাবা নিজের কষ্ট আড়াল করে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। সন্তানের সাফল্যে গর্বিত হলেও নিজের অবদানের কথা খুব কমই বলেন। তাই বাবা দিবস যেন সেই অপ্রকাশিত অনুভূতিগুলো প্রকাশের একটি দিন।

বাংলাদেশে বাবা দিবস

বাংলাদেশেও গত দুই দশকে বাবা দিবসের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। রাজধানী থেকে গ্রাম—সবখানেই দিবসটি নিয়ে নানা আয়োজন দেখা যায়। অনেকেই বাবার সঙ্গে সময় কাটান, উপহার দেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

যাদের বাবা আর বেঁচে নেই, তাদের জন্য দিনটি হয়ে ওঠে স্মৃতি আর আবেগের। বাবার হাত ধরে হাঁটা, স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মমতা—এসব স্মৃতি বারবার ফিরে আসে।

বাবার প্রতি শ্রদ্ধা

একজন বাবা হয়তো সবসময় বলেন না, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।” কিন্তু সন্তানের জন্য তার প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি উদ্বেগ, প্রতিটি নির্ঘুম রাত সেই ভালোবাসারই প্রকাশ।

আজ বাবা দিবসে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। যারা জীবিত আছেন, তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার হোক। আর যারা চলে গেছেন, তাদের স্মৃতি হয়ে থাকুক হৃদয়ের গভীরে।

কারণ জীবনের অনেক সত্যের মতো এটিও সত্য—একটি পরিবারকে দাঁড়িয়ে থাকতে যে মানুষটি নীরবে ভিত্তি হয়ে থাকেন, তার নাম বাবা।