রেকর্ডের মুকুটে মেসি
খেলাধুলা ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৩৭ এএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
লিওনেল মেসি।
একসময় জাতীয় দলের জার্সি খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। চারটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে হারের যন্ত্রণা, সমালোচনার ঝড় আর অপূর্ণতার বেদনা তাকে ঠেলে দিয়েছিল অবসরের দিকে। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের গল্প কখনো এত সহজে শেষ হয় না।
অবসরের সিদ্ধান্ত বদলে ফের মাঠে ফিরে আসেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এরপর যেন শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। আর্জেন্টিনা জেতে টানা দুটি কোপা আমেরিকা, জেতে ফিনালিসিমা, আর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। সেই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন মেসি।
২০২৬ বিশ্বকাপে এসে আবারও নিজের কিংবদন্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার পর এদিন ১৭তম ও ১৮তম গোল করে এককভাবে শীর্ষে উঠে যান তিনি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য সুখকর ছিল না। অষ্টম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। বল চলে যায় লক্ষ্যের বাইরে। কিন্তু বড় খেলোয়াড়দের বিশেষত্বই হলো, তারা ব্যর্থতাকে শক্তিতে পরিণত করতে জানেন। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত এক নিচু শটে সমতায় ফেরেন তিনি। আর সেই গোলেই ভেঙে যায় ক্লোসের বহুদিনের রেকর্ড।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আরও একবার জাদু দেখান মেসি। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে এগিয়ে গিয়ে কঠিন কোণ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। আর্জেন্টিনা পায় ২-০ গোলের জয়, আর বিশ্ব ফুটবল পায় নতুন এক ইতিহাস।
৩৯ বছরে পা দেওয়ার ঠিক আগে এমন কীর্তি মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নতুন এক মাইলফলক। বিশ্বকাপে এখন তার গোলসংখ্যা ১৮। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই গোলগুলোর অধিকাংশই এসেছে ৩৫ বছর বয়সের পর। বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা— সেটি যেন বারবার প্রমাণ করে চলেছেন তিনি।
বিশ্বকাপে ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার হিসেবেও রেকর্ড গড়েছেন মেসি। শুধু গোল নয়, অ্যাসিস্ট, ম্যাচ খেলা, সুযোগ সৃষ্টি— প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন সেরাদের কাতারে। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসাও তিনি।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “আমি এখনও ফুটবল উপভোগ করি। মাঠে নামলে আনন্দ পাই। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারা আমাদের জন্যও বড় আনন্দের।”
এই কথাতেই যেন ধরা পড়ে তার ফুটবল দর্শন। রেকর্ড, ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরেও তিনি খেলেন ভালোবাসার জন্য, আনন্দের জন্য। আর সেই ভালোবাসাই তাকে নিয়ে গেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসনে।
এক দশক আগে যে মানুষটি হতাশায় অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, আজ তিনিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের এই যাত্রা শুধু একজন ফুটবলারের গল্প নয়; এটি ঘুরে দাঁড়ানোর, লড়ে যাওয়ার এবং নিজের স্বপ্নকে নতুন করে জয় করার এক অনন্য কাহিনি।
ফুটবলের ইতিহাসে বহু কিংবদন্তি এসেছেন, বহু রেকর্ড তৈরি হয়েছে। কিন্তু লিওনেল মেসির গল্পটি আলাদা। কারণ তিনি শুধু রেকর্ড ভাঙেন না, তিনি রেকর্ডকে নতুন অর্থ দেন।
