ঢাকা, বুধবার ২৪, জুন ২০২৬ ২১:৩৩:৫৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

পাকিস্তানে মাহরাং বেলুচের যাবজ্জীবন, রায় নিয়ে ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:১১ পিএম, ২৪ জুন ২০২৬ বুধবার

অধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচ

অধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচ

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার অধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। একই মামলায় তার সহযোগী সমাজকর্মী সিবগাতুল্লাহকেও একই সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়কে ঘিরে দেশ-বিদেশে মানবাধিকার সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালে বেলুচিস্তানের উপকূলীয় শহর গোয়াদারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির সদস্য শাব্বির আহমেদ নিহত হওয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

প্রসিকিউশনের দাবি, সমাবেশে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরে একদল বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে শাব্বির আহমেদ জনতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং পরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মাহরাং বেলুচ ও সিবগাতুল্লাহ সমাবেশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং নিহত সদস্যের হত্যার ঘটনায় তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল। আদালত নিহতের পরিবারকে দুই লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে মাহরাং ও তার সহকর্মী শুরু থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তারা বিচারপ্রক্রিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেছিলেন। মাহরাংয়ের বোন ও আইনজীবী নাদিয়া বেলুচ অভিযোগ করেছেন, মামলার শুনানি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়নি এবং সাক্ষীদের জেরা করার যথাযথ সুযোগও দেওয়া হয়নি।

রায়ের পর পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন মামলাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, দেশে মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলাকে ক্রমেই অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ রায়ের সমালোচনা শুরু হয়েছে। পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ভিন্নমত দমনে রাষ্ট্রীয় ভূমিকারও সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে বেলুচিস্তান সরকারের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে এবং মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। তাদের মতে, আদালত উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই রায় দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মাহরাং বেলুচ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত এক মানবাধিকারকর্মী। ২০২৪ সালে তিনি বিবিসির প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পান। ২০০৯ সালে তার বাবাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি আন্দোলনে যুক্ত হন। দুই বছর পর তার বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের ন্যায়বিচারের দাবিতে ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রার নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন মাহরাং। তার সংগঠন বেলুচিস্তান ইউনিটি কমিটি দীর্ঘদিন ধরে বেলুচিস্তানে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। যদিও পাকিস্তান সরকার সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে, সংগঠনটি বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।