ঢাকা, বুধবার ২৪, জুন ২০২৬ ২২:০৪:১১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রোনালদোকে এড়ানো যায়, অস্বীকার করা যায় না

খেলাধুলা ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:৫৯ পিএম, ২৪ জুন ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জোড়া গোলে নিন্দুকের মুখ বন্ধ করিয়েছেন। রোনালদো অবশ্য জানেন, এটি সাময়িক। তিনি পর্বত ছুঁলেও তাতে খুঁত বের করবে নিন্দুক। তা নিয়ে তার ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে। ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’-র মতো একা একাই ছুটে চলেন। এই যেমন মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্তুগালকে টানলেন। একা টানেননি। কিন্তু আগের সপ্তাহে যারা নুইয়ে পড়েছিল, তাদের উজ্জীবিত করতে ষষ্ঠ মিনিটের গোলটাই যথেষ্ট ছিল। তারপর পর্তুগাল কী করেছে, সবার জানা।

ফুটবল কখনও রোনালদোকে দু’হাত ভরে দেয়নি। তিনি আদায় করেছেন। যতবার শেষের সঙ্গীত বাজার আবহ তৈরি হয়েছে, ততবার রোনালদো থামিয়েছেন। তিনি এমনই। নিজে না থামলে তাকে থামানোর সাধ্য কার।

বয়স ৪২ চলছে। এই বয়সে এসে হিউস্টনে যে পারফর্ম করলেন, হঠাৎ করে ফুটবল দেখতে বসা কাউকে যদি বলা হতো, বয়স ৪২; নির্ঘাৎ হেসে কুটি কুটি হতো। পা চলে না কি ৪২-এ! রোনালদোর চলেছে। পায়ের সঙ্গে মাথাও। 

উজবেকিস্তানকে পাঁচ গোল দিয়েছে পর্তুগাল। দুটি গোল রোনালদোর। বাকি তিন গোলের দুটিতে যদি তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, কেউ বেজার হওয়ার কথা নয়। দ্বিতীয় গোলটা নুনো মেন্ডেস সরাসরি ফ্রিকিক থেকে দেবেন, তা কে ভেবেছিল? কামব্যাক দেওয়া রোনালদোর পায়ে গোটা দুনিয়া তাকিয়ে। গ্যালারিতে দর্শকের চোখ আর ক্যামেরার চোখ অভিন্ন নিশানায়। উজবেক ফুটবলাররা দেয়াল তৈরি করেছেন রোনালদোর জন্যই। সেখানে কী না, গোল দিলেন নুনো।

গোলের পর রোনালদোর উদযাপন কিংবা হাত দিয়ে মাথায় ইঙ্গিত, সবটাই বুঝেছে সবাই। হাই আইকিউর খেলায় এভাবে প্রতিপক্ষকে ঘোল খাওয়ানোর দৃশ্য রোজ রোজ দেখার সুযোগ মেলে না। ফ্রিকিকে আরেকটি গোল পেতে পারত পর্তুগাল। দ্বিতীয় ফ্রিকিকে ব্রুনো ফার্নান্দেজকে দিয়ে খেলালেন আরেক খেলা। ব্রুনোর লবে সিআরসেভেন ঠিকঠাক পা মেলাতে পারলেই কেল্লাফতে হয়ে যেত।

এরপরেও তিনি খেলেছেন। প্রথম ম্যাচের বোতলবন্দী রোনালদো, ক্লাসের একলা ছেলেটা এদিন নেতার মতো খেলেছেন। নিজেদের রক্ষণে নেমে হেডারে বল ক্লিয়ার করেছেন, মাঝমাঠ থেকে বলের জোগান দিয়েছেন, আক্রমণ করেছেন, করিয়েছেন। একেকটি গোলের পর ডাগআউটে রবার্তো মার্টিনেজ হাসছিলেন। পর্তুগিজ কোচ দেখলেন, মাঠে কোচিং করাচ্ছিলেন রোনালদো। তার আঙ্গুলের ইশারায় গোটা দল একত্রিত হচ্ছে। যা বলছেন, যেভাবে বলছেন, সতীর্থরা মানছে। 

এই করে করে দ্বিতীয় গোলটা পেলেন রোনালদো। উদযাপনের পর চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। বুক থেকে পাথর নামালেন মনে হলো। তারপর শিশুসুলভ হাসি। যেন কতদিন অপেক্ষায় ছিলেন এমন এক সন্ধ্যার। 

রোনালদো আসলে এমনই। জবাব তিনি এভাবেই দেন। লোকের হিসেবে বুড়িয়ে গেছেন, ফুরিয়ে গেছেন। কিন্তু ওই যে, তিনি নিজে না থামলে তাকে থামানোর সাধ্য নেই কারও। গোলের জন্য, দলের জন্য কতটা মরিয়া ছিলেন, তা গোটা ম্যাচেই দৃশ্যমান হয়েছে। উজবেকিস্তানের গোলরক্ষক তো দ্বিতীয়ার্ধে অল্পের জন্য গোল হজম করেননি। কেউ ছিল না। গোলরক্ষক শট নিলেন। সামনে রোনালদো এসে লম্বা পায়ে বল কেড়ে গোলের চেষ্টা করেছিলেন। তা দেখে মনে হবে, সিআরসেভেন জানান দিচ্ছেন, আমার জন্য আমিই যথেষ্ট।

তবু, ফুটবল দলীয় খেলা। তাকে টিমম্যান হতেই হতো। তার মতো একজন টিমম্যান হলে কী করতে পারেন, তার ঝলক আবার দেখালেন। পর্তুগাল দলটা হয়তো বুঝতে পেরেছে নিজেদের ভুল–রোনালদোকে এড়ানো যায়, অস্বীকার করা যায় না। অস্বীকার দূরে থাক, এড়িয়ে যাওয়ার ফলও পেয়েছিল কঙ্গোর সঙ্গে।

ম্যাচের পর রোনালদো বলেছেন, ‘একটা কঠিন সপ্তাহ গিয়েছে। মনে হয়েছে, আমি যেন ফুটবল থেকে অবসরই নিয়েছি। কিন্তু, আমি সেটিই করেছি, যা সবসময় করি। ফুটবলের চেয়ে আমি পরিশ্রেমে বেশি বিশ্বাস করি। ঈশ্বর পরিশ্রমীদের সাহায্য করেন। খুবই কঠিন ছিল সবকিছু। আমরা (পর্তুগাল) ফিরে এসেছি।’

ভুল শুধরেছে পর্তুগাল। রোনালদো ফিরেছেন। টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করার একমাত্র অর্জন গড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বমঞ্চে জোড়া গোলের কীর্তি তারই। একই ম্যাচে ছাড়িয়েছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি ইউসেবিওর ৯ গোলের রেকর্ড। বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর গোল এখন ১০টি। এসব পরিসংখ্যান এক পাশে রেখে সবচেয়ে বড় ব্যাপার, রোনালদো ফিরেছেন।