ঢাকা, শুক্রবার ২৬, জুন ২০২৬ ১৬:৫১:৫১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রেকর্ড গরমে ইউরোপে মৃত্যু বাড়ছে, জনজীবন স্থবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৩৮ পিএম, ২৬ জুন ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ। ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালি ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রেকর্ড তাপমাত্রা জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন হাজারো মানুষ, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রকাশ্যে মদ্যপান ও নির্দিষ্ট সময়ে মদ বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

ফরাসি পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে মদ্যপান নিষিদ্ধ থাকবে। একই সময়ে পার্সেল বা টেক-অ্যাওয়ে হিসেবে মদ বিক্রিও বন্ধ থাকবে। তবে লাইসেন্সধারী বার ও রেস্তোরাঁ এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

প্যারিস পুলিশের প্রধান পাত্রিস ফোর বলেছেন, হাসপাতালগুলো প্রায় ধারণক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। নতুন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকরনু জানিয়েছেন, চরম তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সতর্কতার সর্বোচ্চ স্তর জারি করা হয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা ও তাপমাত্রাজনিত ঝুঁকির কারণে দেশের তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বয়স্ক নয়, তরুণরাও এবার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট জানান, অতিরিক্ত গরমে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। রাজধানীর অ্যাম্বুলেন্স সেবাগুলো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার গুণ বেশি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের রোগী পাচ্ছে।

প্যারিসের ডেপুটি মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের হওয়া, জগিং বা ভারী শরীরচর্চা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে প্যারিস অঞ্চলে একটি গাড়ির ভেতর থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেন শহরে তীব্র গরমে বাড়ির ভেতরেই অন্তত কয়েকজন প্রবীণের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।

ফ্রান্সের বাইরে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। স্পেনে চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে গরমজনিত কারণে ২ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জার্মানির বিস্তীর্ণ এলাকায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ কারণে হামবুর্গের হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা বাতিল করা হয়েছে।

ইতালিতেও পরিস্থিতি নাজুক। ফ্লোরেন্সের ঐতিহাসিক উফিজি জাদুঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ইউরোপে এমন অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং ব্যাপক বনায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ইউরোপে ভবিষ্যতে দাবদাহ, খরা ও দাবানলের মতো চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ আকারে দেখা দিতে পারে।