ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৯২০, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪৫ এএম, ২৭ জুন ২০২৬ শনিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২০ জনে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখনো ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের যথাক্রমে ২০ দশমিক ৩ ও ১০ কিলোমিটার গভীরে। রাজধানী কারাকাসসহ উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে বিপর্যস্ত লা গুয়ারা রাজ্যে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। সরকারি হিসাবে অন্তত ২৫০টি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে হাসপাতাল, রেডক্রসের ভবন এবং কয়েকটি কূটনৈতিক স্থাপনাও রয়েছে। হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, প্রায় তিন হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে শত শত মানুষ আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০০ জনের বেশি মানুষের জীবিত থাকার সংকেত পাওয়া গেছে এবং তাদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান চলছে।
উদ্ধার তৎপরতায় ধীরগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষোভ বাড়ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করছেন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় রাতের অন্ধকারে মোবাইল ফোন ও মশালের আলোয় উদ্ধার অভিযান চালাতে হচ্ছে।
লা গুয়ারা, কাটিয়া লা মার ও কারাবালেদা শহরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসেবার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকার জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সেগুলো পর্যাপ্ত নয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। স্পেন, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, সুইজারল্যান্ড, এল সালভাদরসহ অন্তত ১৭টি দেশের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। জাতিসংঘের সমন্বয়ে পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমে আরও কয়েকটি দেশ চিকিৎসাসামগ্রী, উদ্ধার সরঞ্জাম ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ। তবে সাম্প্রতিক এই দুর্যোগকে দেশটির আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
